মেইন ম্যেনু

অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ঢাকা সফরে আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট

আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তার সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহায়তার অঙ্গীকার আসতে পারে। ইতোমধ্যে চীনা সরকার বাংলাদেশের ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ‘সফট লোন’ দিতে প্রাথমিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

২০১৬-২০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফরের সময় আগামী ১৩ বা ১৪ অক্টোবর এই উন্নয়ন প্রকল্পের সই হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

চীনের সহায়তার মধ্যে বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাইরেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ২ অক্টোবর ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বৈঠক হবে। এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত হবে বলে সূত্রটি জানায়।

জানা যায়, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ইআরডির কর্মকর্তা চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে ২টি প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের চীনের কাছ থেকে ৬টি জাহাজ ক্রয় আর দাসেরকান্দিতে ২৮০ মিলিয়ন ডলারের পানি শোধনাগার নির্মাণ। ইআরডির একটি সূত্র জানায় এই তথ্য জানায়।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ২০ প্রকল্পের মধ্যে ৭/৮টি চীনের কিছু কোম্পানির মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন করেছে। চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে এই চুক্তি হতে পারে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থমন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়।

অর্থ বিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ কমিটি চীনের কোম্পানির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। চুক্তি হলেই আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চায়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইবার চীন সফর করেছেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের জুনে তিনি চীন সফর করেন।

বাংলাদেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে ঋণের জন্য চীনের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছে চীনের পক্ষ থেকেও মৌখিকভাবে ১০, ২০ ও ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে তার লিখিত স্বীকৃতি পাবে। চীন তাদের অঙ্গীকার রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ৭টি প্রকল্পে তহবিল দিতে আগ্রহ রয়েছে চীনের। এই খাতের বাস্তবায়নে ৭.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত বছর শেখ হাসিনা চীন সফরে গিয়ে এই প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

সরকার ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ শুরু করেছে প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য। আর অন্য একটি প্রকল্প হচ্ছে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কয়লাভিত্তিক ৩৫০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গজারিয়ায় চীন ৪৩৩ মিলিয়ন ডলার তহবিল করবে। গজারিয়ায় চীনের ব্যবসায়ীরা গার্মেন্টস কারখানা তৈরিতেও বিনিয়োগ করবেন।

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘপথ সহ চারটি প্রকল্পে তহবিল দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এটির ব্যয় হবে ৬.২১ বিলিয়ন ডলার। আরো তিনটি প্রকল্প হচ্ছে- জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিং, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী ও আখাউড়া থেকে সিলেট রেল সংযোগ প্রকল্প। এছাড়া ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-সিলেট ফোর লেন হাইওয়ে ও সীতাকুন্ডু- কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেস ওয়ে প্রকল্পে ৬.৬৫ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাবনা দিয়েছে বেইজিং। তথ্য সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার



« (পূর্বের সংবাদ)