মেইন ম্যেনু

অটোরিকশার ফসকা গেরো

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট এলাকায় পরিবার নিয়ে গাড়ির অপেক্ষা করছিলেন আতাউর রহমান। যাবেন নিকেতন। কিন্তু কোন মিটারে যেতে রাজি হচ্ছে না কোন সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অনেকক্ষণ পর (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-০৪৩৩) এক চালক যেতে রাজি হলেও মিটারে যেতে চাননি।

ক্ষুব্ধ আতাউর রহমান বলেন, ‘শুনেছি মিটারে চলবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। কিন্তু এখানে তা ব্যতিক্রম দেখছি। চালক বলছে, আজ শনিবার রাস্তায় যানজট নেই। মিটারে গেলে সে ১০০টাকাও পাবে না। এর মানে হল রাস্তায় যানজট হলে মিটারে যাবে। তা না হলে তারা মিটারে যাবে না চুক্তিতে যাবে’।

ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার নতুন ভাড়ার হার ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। নতুন ভাড়া অনুযায়ী অটোরিকশার প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। পরের প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১২ টাকা। প্রতি এক মিনিট ওয়েটিংয়ের (যাত্রাবিরতি, যানজট ও সিগন্যাল) জন্য দুই টাকা। মালিকের জমা ৯০০ টাকা।

নতুন ভাড়া কার্যকরের প্রথমদিকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা মিটারে চললেও যতদিন যাচ্ছে ততই চালকরা আগের মতোই চুক্তিতে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন যাত্রীরা। ছুটির দিন কিংবা রাস্তা ফাঁকা থাকলে তারা চুক্তিতে চলতে আগ্রহী হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চালকরা আগেভাগেই ২০ বা কখনও তার চেয়ে বেশি বকশিস দাবি করেন। দাবি না মেটালে যাবেন না। কেউ কেউ ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তদের দাবি, যেতে হলে তাদের কথা মত চুক্তিতে যেতে হবে যাত্রীদেরকে।

অটোরিকশাচালকদের ভোগান্তি বেশি বাস টার্মিনাল, লঞ্চ ঘাট, রেল স্টেশনে। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা চালকদের দাবি মেনে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি হচ্ছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গত দেড়মাসে এক হাজার ৭৫৬টি অটোরিকশা পর্যবেক্ষণ করেছে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ চালক এবং যাত্রী জানিয়েছেন, তারা মিটারে চলেছেন। আর ৩৪ শতাংশ চালক এবং যাত্রী জানিয়েছেন তারা চুক্তিতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মিটারের চলাচলকারী যাত্রীদের ৮১ শতাংশ যাত্রী জানিয়েছেন চালক মিটারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও সর্বনিম্ন বিশটাকা বখশিশ দাবি করেছেন।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেছেন, সরকার মালিক-শ্রমিকদের দাবি মেনে যাত্রীদের উপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দিয়েও তাদের শৃঙ্খলায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন এই সময়কে বলেন, সব অটোরিকশা মিটারে চলছে না- এটা ঠিক নয়। আর না চলার পিছনেও কারণ রয়েছে। গত দেড় মাসে দুই হাজার ২৩৩টি অটোরিকশার মালিক দুই শিফটে গাড়ি চালাচ্ছে এমন অভিযোগ আমরা বিআরটিএর কাছে জমা দিয়েছি। যারা দুই শিফটে জমা নিচ্ছে এক হাজার ৭০০ টাকা। যার শিফট হচ্ছে সকাল আট থেকে রাত আটটা। আরেক শিফট হচ্ছে রাত আটটা থেকে সকাল আটটা। কিংবা সকাল ছয়টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত। আবার নির্ধারিতের অতিরিক্ত দশ হাজার অটোরিকশা চলছে। যার ছয় হাজার প্রাইভেট গাড়ি এবং চার হাজার ঢাকার আশপাশের জেলার গাড়ি যেগুলো মিটারে না চলে চুক্তিতে চলে। এর প্রভাব ঢাকার অটোরিকশা চালকদের উপরও পড়ে।

হানিফ খোকন বলেন, আমরা সরকারকে বলবো অতিরিক্ত জমা বন্ধ, প্রাইভেট গাড়ির যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। এছাড়াও যেসব চালক মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আমাদের পক্ষ থেকে সরকারকে সহযোগিতা করা হবে।

চালকদের অভিযোগের জবাবে ঢাকা সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএইচ ইকবাল এই সময়কে বলেন, ‘এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তারা যদি ব্যবস্থা নেয় আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করবো’।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি ট্রাফিক-পশ্চিম) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ভাড়া বাড়ানোর পর মিটারে গেলে চালকদের লাভ হচ্ছে। তারপরও কিছু চালক নিয়ম মানে না। আমরা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যাত্রীরা ট্রাফিক সার্জেন্টের কাছে অভিযোগ করলেই হবে। কোন মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা লাগবে না। এর জন্য তাদের কোর্টে হাজিরাও দিতে হবে না। সার্জেন্টদের বলে দেয়া হয়েছে যাত্রীদের অভিযোগ পেলে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

জানতে চাইলে বিআরটিএর সচিব শওকত আলী বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমের আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যদি কোন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন তাহলে আমাদের মনিটরিং সেল বা ট্রাফিক পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যাত্রীরা অটোরিকশায় উঠার পরও আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারেন’।-এই সময়