মেইন ম্যেনু

অতিরিক্ত প্রত্যাশাই কি ডিভোর্সের কারণ?

বাঙালির সাদামাটা লাইফে সবথেকে জগঝম্প ইভেন্ট কোনটা? প্রশ্ন তুললে অনেকেই বলে উঠবেন— চাকরি পাওয়া। কেউ এককদম এগিয়ে বলতে পারেন— প্রেমে পড়া। কিন্তু এ সবে বাঙালির ভবি দীর্ঘ সময়ের জন্য ভোলে না। কোনও সমীক্ষা করলেই দেখা যাবে, মধ্য আর নিম্নমধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজে আজও বিয়েই বোধ হয় সবথেকে ‘বড়’ ইভেন্ট।

বাঙালির যাবতীয় প্রত্যাশার কেন্দ্রেই কি থাকে বিবাহোত্তর জীবন? প্রত্যেক পুরুষই বিশ্বাস করে বিয়েই তার জীবনের যাবতীয় খানাখন্দ ভরাট করে তাকে নিয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত সুখের রাজত্বে। প্রত্যেক নারীরও হয়তো ধারণা থাকে, সে বিবাহোত্তর পর্বে সৌভাগ্য এনে দেবে। এভাবেই কেটে যায় দাম্পত্য। ‘সুখ’ নামের বালিহাঁসটিকে ধরা যয় না কোনও দিনই। সে কেবল ঘরে-দূরে-দিগন্তরেখায় উড়ে বেড়ায়। তার ডানার শব্দ শোনা যায়, তার পালকে লেগে থাকা রৌদ্রের গন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু তাকে তার পূর্ণ অবয়ব সমেত ধরা যায় কি?

এই অধরা মাধুরীই কি নিয়ে যায় বিচ্ছেদের দিকে? বাংলায় নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক সার্ভে দেখতে চেয়েছিল, অতিরিক্ত প্রত্যাশা থেকেই বিয়ে তার মানেকে হারিয়ে ফেলছে কি না দেখতে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ডিভোর্সের পিছনে কাজ করছে একধরনের আশাভঙ্গ। ১৩৫টি নববিবাহিত দম্পতির কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, তাদের সুখ-সংক্রান্ত আশা-নিরাশাই কি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের কথা ভাবতে বাধ্য করে? দেখা গিয়েছে, পুরুষরা যদিবা এক প্রকার সন্তুষ্টির কথা বলেছেন, মেয়েরা কিন্তু বেশ খুঁতখুঁতই করে গিয়েছেন। তা হলে কি ঘর ভাঙে কেবল ঘরনির চাওয়ার কারণে?

মার্কিন সাগা বাংলায় খাটবে না। কী চেয়েছিল সুবোধ ঘোষের ‘জতুগৃহ’ গল্পে শতদল আর মাধুরী? আপাত-সুখের অন্তরালে ঘনিয়ে উঠছিল বিচ্ছেদের আগুনের লেলিহান জিভ। ‘জতুগৃহ’-কে উদাহরণ হিসেবে দেখলেই হবে। লড়াই নয়, তুলকালাম নয়, নীরবে, একান্ত নীরবে ‘প্রেম’ নামক এক মরিচীমায়া ক্ষয়ে যায়। তার পরে কেউ হয়তো আদালত পর্যন্ত যান। কেউ যান না।

মনে রাখতে হবে, বিবাহ ‘বিচ্ছেদ’-কে কোর্ট-পেপারের মর্মরে খুঁজলে হবে না। সে থমকে রয়েছে যে কোনও বিবাহের অন্তরালেই। সুখ নামক বালিহাঁসের উড়ানদৃশ্য কখন থমকে যায়। তার পরে নমে শূন্যতা…।এবেলা