মেইন ম্যেনু

অতিরিক্ত সয়া খাচ্ছেন না তো?

বর্তমানে মানুষ অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে পড়ছে। খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হচ্ছেন অনেকে। এভাবেই সয়াবিনজাত খাবারের প্রতি ঝুঁকছেন অনেকে, কারণ প্রাণীজ প্রোটিনের প্রতিস্থাপন হিসেবে এটা ভালো। সয়া মিল্ক থেকে শুরু করে সয়া প্রোটিন বল, প্রোটিন পাউডার, টোফু, এডামাম ইত্যাদি অনেকেই নিজেদের খাদ্যভ্যাসে রাখছেন নিয়মিত। কিন্তু আপনি কী সুস্থ থাকতে গিয়ে বেশি সয়া খেয়ে ফেলছেন? এটা কী আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারে?

সয়ার উপকারিতা

সয়া খাদ্যদ্রব্য খাওয়ার একটা বড় উপকারিতা হলো, এটা এমন সব খাবারকে প্রতিস্থাপন করে যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব রাখতে পারে যেমন রেড মিট। মাংসে যেমন কোলেস্টেরোল এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, তেমন কিছু সয়াতে থাকে না। বরং থাকে বেশ ভালো পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেল। অনেকে দাবি করে সয়া নাকি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমাতে সক্ষম।

কিন্তু সয়া কি আসলেই সুপারফুড?

বেশি সয়া খেলে মাংস কম খাওয়া পড়বে। এভাবে আমরা নিজেদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা কমাতে পারি। কিন্তু সয়া নিজে থেকে অতিরিক্ত কোনো স্বাস্থ্য উপকারিতা দেয় এমন কোনো প্রমাণ নেই। অনেকেই দাবি করেন এটা কোলেস্টেরল কমায়, হট ফ্ল্যাশ থামায়, ব্রেস্ট এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং অস্টিওপোরোসিস রুখে দেয়। কিন্তু এসব দাবি সব প্রিলিমিনারি রিসার্চের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলোর শক্ত কোনো ভিত্তি নেই। বেশীরভাগ মানুষের হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের ওপর সয়ার ইতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কম। কোলেস্টেরোল কমাতেও তা অনেক কম কার্যকরী।

সয়ার খারাপ দিক

সয়ার একটা অন্ধকার দিকও আছে, মূলত আপনার শরীরের হরমোনের ওপর। সয়াতে আছে আইসোফ্ল্যাভোন নামের এক ধরণের ফাইটোইস্ট্রোজেনম যা কিনা আমাদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মতো প্রভাব ফেলে। আপনি অনেক বেশি সয়া খেলে শরীরের ইস্ট্রোজেন-সেন্সিটিভ সিস্টেমগুলো বিভ্রান্ত হতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মস্তিষ্ক, পিটুইটারি গ্ল্যান্ড এবং জননাঙ্গগুলো। এমনও দেখা গেছে যে বেশি সয়া খাওয়ার মাধ্যমে নারীদের ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ লক্ষণের মাঝে আছে অতিরিক্ত ক্লান্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং শরীর ম্যাজম্যাজ করা।

এর চাইতেও ভয়ংকর ব্যাপার হলো, প্লাস্টিকের মাঝে থাকা যে BPA কে ক্যান্সারের জন্য দায়ী করা হয়, সেই BPA এর প্রভাবটাও অনেকটা এমনই। ব্রেস্ট ক্যান্সারের ওপর সয়া খাওয়ার প্রভাব এখনো অনিশ্চিত কিন্তু যারা ঝুঁকিতে আছেন তাদেরকে সয়া খাওয়া বন্ধ রাখার উপদেশ দেওয়া হয়। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সয়া খাওয়ার মাত্রাটা ভিন্ন। তবে অতি মাত্রায় খাওয়াটা উচিৎ নয় আসলেই।

এছাড়াও ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই এর ডাক্তার লন হোয়াইট জানান, মস্তিষ্ককে বুড়িয়ে দেবার পেছনে ভূমিকা থাকতে পারে সয়ার।

শেষ কথা

তাহলে কী করবেন? সয়া খাওয়া আর নয়? না। সয়া খাওয়াটা মাংস খাওয়া কমিয়ে আনার একটা ভালো উপায় হতে পারে। কিন্তু কোনো কিছুরই অতিরিক্ত ভালো নয়। অতিরিক্ত সয়া আপনার স্বাস্থ্য এবং হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে। তিনবেলা সয়া খাদ্যদ্রব্য না খেয়ে বরং মাঝে মাঝে খেতে পারেন। এক কাপ সয়া মিল্ক অথবা ৩-৪ আউন্স টোফু খেতে পারেন নিরাপদেই।