মেইন ম্যেনু

অদ্ভুত জুটির বিখ্যাত দশ রোমান্টিক চলচ্চিত্র

পৃথিবীর অনেক চলচ্চিত্র বিখ্যাত হয়েছে শুধু জুটির দর্শক প্রিয়তার কারণে। আর এ জুটির অধিকাংশ দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে রোমান্টিক কাহিনির জন্য। তবে বিশ্বের রোমান্টিক গল্পের কিছু চলচ্চিত্রে দেখা গেছে, অদ্ভুত কিছু জুটি। যেমন- শিপ্পাঞ্জির সঙ্গে নারীর প্রেম কিংবা কিশোরের সঙ্গে বৃদ্ধার প্রেম অথবা রোবটের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক।

তবে অদ্ভুত এমন জুটির অসামঞ্জস্যতার কারণে যে তারা দর্শকপ্রিয়তা পাননি তা নয়। এসব জুটির অনেক সিনেমা দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে। বিখ্যাত দশ রোমান্টিক সিনেমার কাহিনি নিয়ে সাজানো হয়েছে এ প্রতিবেদন।

লেটরাইটওয়ানইন : সুইডেনের চলচ্চিত্র লেট রাইট ওয়ান ইন। টমাস আলফ্রেডসন পরিচালিত একটি আকর্ষণীয় কল্পনাপ্রবণ গল্পে নির্মিত রোমান্টিক এ সিনেমাটি। একটি তুষারময় স্টকহোমের শহরতলীতে অবস্থিত একটি ফ্লাটে ঘটে যাওয়া সহিংসতা এই সিনেমায় দেখানো হলেও নির্বাসিত এলির রহস্যময় প্রেমের সম্পর্ক এবং ঘটনাবলির কারণে সিনেমাটি রোমান্টিক সিনেমার কাতারে পড়ে। তবে গ্রাম থেকে মাঝে মাঝে শহরে আসা ১২ বছর বয়সী ইভনের সাথে এলির সম্পর্ক এই সিনেমায় একটি ব্যতিক্রম জুটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যারি হেডিব্রান্ট এবং লিনা লেন্ডারসন।

লার্সঅ্যান্ডরিয়েলগার্ল : একটি নিরেট কমেডির সাচে গড়ে ওঠা চলচ্চিত্র হলো লার্স অ্যান্ড রিয়েল গার্ল। তবে কমেডির মধ্যেও একটি মানুষের সাথে নারী পুতুলের প্রেম সিনেমাটিতে যোগ করেছে রোমান্টিকতার আলাদা এক মাত্রা। ২০০৭ সালের অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ঠিক পরের বছরই কানাডার বর্ষসেরা চলচ্চিত্রের স্থান দখল করে নেয়।

উইংস অব ডি জায়ার : জার্মানির চলচ্চিত্র উইংস অব ডিজায়ার বিখ্যাত হয়েছে সিনেমাটির রোমান্টিক জুটির জনপ্রিয়তার কারণে। এম রেন্দারস পরিচালিত এই সিনেমাটিতে উঠে এসেছে স্বর্গ থেকে মানবতার সেবায় আসা একজন দূতের সাথে পৃথিবীতে বসবাসরত এক রমণীর রোমান্টিকতা। একটি প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র করে রঙ্গিন বার্লিন শহরের ঐতিহাসিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে সিনেমাটিতে।

মেকিং মিস্টার রাইট : দুর্ভাগ্যক্রমে একটি রোবটের সাথে একটি নারীর প্রেমের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সিনেমার নাম মেকিং মিস্টার রাইট। সায়েন্স ফিকশন ফিল্মের কিছুটা অনুরুপ এই চলচ্চিত্রটি আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ১৯৮৭ সালের ৩ এপ্রিল। আলাদা ধরনের জুটি তৈরি এবং প্রবল রোমান্টিকতার কারণে ওই সময়ে বক্স অফিসে জায়গা করে নেয় সিনেমাটি। রোবটের মধ্যে নারীর রোমান্টিকতার প্রভাব সিনেমায় দেখানো সম্ভবত এই সিনেমার মধ্য দিয়েই সফলভাবে শুরু হয়েছিল। কারণ সিনেমাটি প্রচুর দর্শক সমাদৃত হয়।

মাক্সমন আমুর : স্বামীর সাথে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে শিপ্পাঞ্জির প্রেমে পড়া এবং পরবর্তীতে শিপ্পাঞ্জির সাথে বিভিন্ন রোমান্টিক দৃশ্যের অবতারণার মাধ্যমে একটি অদ্ভুত রোমান্টিক জুটির জন্ম দিয়েছেন জাপানি পরিচালক নার্গিসা ওশিমা । ১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া জাপানি এই সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন শার্লট রামপ্লিং।

স্টারম্যান : স্টারম্যান সিনেমার পরিচালক জন কারপেন্টার অনেক আগে থেকেই রোমান্টিক চলচ্চিত্র তৈরি করে অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। তবে এই চলচ্চিত্রটি একটু ভিন্ন প্রকৃতির। ব্লেড রানারের মতো এটিও একটি সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র। ১৯৮৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন জেফ ব্রিজেস এবং কারেন অ্যালেন। সিনেমায় জেফ ব্রিজেসকে দেখানো হয় বাইরের গ্রহ থেকে স্বর্ণের গ্রামোফোন রেকর্ডে পাওয়া আমন্ত্রনের জবাবে পৃথিবীতে খোঁজে আসা একজন এলিয়েন হিসেবে। যার প্রেমে পড়ে পৃথিবীতে বসবাস করা ক্লোন মানবী জেনি হেডেড। তবে সিনেমার গল্পের মাধ্যমে এই এলিয়েন ও জেনি হেডেড জুটির রোমান্টিকতা ফুটিয়ে তোলা হলেও দর্শকের কাছে জুটিটি বেশ অদ্ভুত লেগেছে।

ব্লেড রানার : ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লেড রানার সিনেমাটি হলো একটি বৈজ্ঞানিক কথাসাহিত্য নির্ভর চলচ্চিত্র। মনস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন যুদ্ধের উপর নির্ভর করে এগিয়ে যাওয়া এই সিনেমায়ও রোমান্টিকতা ধরা দিয়েছে এক ভিন্ন আঙ্গিকে। কেন্দ্রীয় চরিত্র ডেকার্ডের প্রাক্তন স্ত্রী মারা গেলেও মৃত স্ত্রীর সাথে রোমান্টিক বিজ্ঞানীর কল্পকাহিনি নির্ভর সিনেমাটিকে প্রানবন্ত করে তুলেছে। তবে অবশ্য এই রোমান্টিক জুটিটি বেশ অদ্ভুত।

হ্যারল্ড অ্যান্ড মড : ঘন ঘন ট্র্যাজেডি উত্তেজিত একটি হাস্যরসিক কমেডি সিনেমা হলো হ্যারল্ড অ্যান্ড মড। সিনেমাটি মুক্তির পর সমালোচকদের চোখে আঙুল দিয়ে সিনেমাটির হ্যারল্ড এবং মড এর রোমান্টিক জুটি দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা স্থান করতে সক্ষম হয়। কারণ সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে আপন মায়ের স্নেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বালককের সাথে ক্রমান্বয়ে ঘনিষ্ঠ হওয়া মড নামের ৭৯ বছর বয়সী একটি নারীর শক্তিশালী প্রেমের গল্প। দারুণ রোমান্টিক এবং ঘন হাস্যরসিক এই সিনেমায় হ্যারল্ড এবং মডের প্রেম ও রোমান্টিকতা অনেকটা অদ্ভুত প্রকৃতির।

দ্য গোস্ট অ্যান্ড মিসেস মুর : জিন টেরনি এবং রেক্স হ্যারিসন অভিনীত দ্য গোস্ট অ্যান্ড মিসেস মুর হলো একটি রোমান্টিক ফ্যান্টাসি ঘরনার ফিল্ম। ইংরেজি ভাষার এ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৪৭ সালে। ১৯৪৫ সালে জোসেফিন লেসলির প্রকাশিত উপন্যাস ‘দ্য গোস্ট অব ক্যাপ্টেন গ্রেজ অ্যান্ড মিসেস মুর’ এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত। এই সিনেমাটির কাহিনি এগিয়ে গেছে একটি অল্পবয়স্ক বিধবার সাথে একটি কিম্ভূতকিমাকার ভৌতিক চরিত্রের জুটির বিভিন্ন কাহিনির উপর ভিত্তি করে।এই অল্পবয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করেন জিন টেরনি।

এ সিনেমার কাহিনি- ১৯০০ সালে, অল্প বয়সী বিধবা লুসি মুইর। তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার মা সমুদ্রতীরবর্তী একটি ইংরেজি গ্রামে চলে আসে। সেখানে থাকার জন্য কুটির ভাড়া নেয়। ওই রাতে কুটিরটির যে রুম খালি ছিল সেটি কাউকে ভাড়া দিতে রাজী না হলেও মা ও মেয়ের পীড়াপীড়িতে এর মালিক রাজী হয়। বিধবা এ মেয়েটি ওই কুটিরের প্রেমে পড়ে। কথিত ছিল- এখানে ক্যাপ্টেন গ্রেগের আত্মা চরে বেড়ায়। এভাবেই এক অসামঞ্জস্য এক জুটিকে কেন্দ্র করে এক রোমান্টিক কাহিনির উপর ভিত্তি করে এগিয়ে গেছে এ চলচ্চিত্রের গল্প।

কিংকং : পৃথিবীর সর্বাধিক ভয়াবহ সিনেমার মধ্যে অন্যতম সিনেমা হলো কিংকং। তবে সকল ভয়াবহতার মধ্যেও একটি দানবের সাথে একটি নারীর প্রেম সিনেমাটিতে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। মেরিয়ান কুপার এবং অরনেস্ট সৌজডেকের পরিচালনায় কিংকং প্রথম মুক্তি পায় ১৯৩৩ সালের ২ মার্চ।

দুঃসাহসিক অভিযানের মহাকাব্যিক এক গল্প নিয়ে নির্মিত এই মনস্টার অ্যানিমেটেড ফিল্মে অভিনয় করেন-ভিনা ফেই রে, ব্রুস কাবট এবং রবার্ট আর্মস্ট্রং। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন একটি বিশালাকায় দানব এবং ফেই রে । ফেই রে এবং দীর্ঘদেহী অন্ধকারচ্ছন্ন এই মানবের রোমান্টিকতা সিনেমাটিকে দিয়েছিল নতুন মাত্রা। যার কারণে তৎকালীন সময়ে ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে সিনেমাটি। ২০০৫ সালে জনপ্রিয় পরিচালক পিটার জ্যাকশন একইনামে সিনেমাটির রিমেইক নির্মাণ করেন। পর্যায়ক্রমে আমেরিকা, জার্মানি এবং নিউজিল্যান্ডে মুক্তি দেওয়া হয় সিনেমাটি। তখনও ৫৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে রেকর্ড গড়ে এ সিনেমা।