মেইন ম্যেনু

অনলাইনে বেতন ও পেনশন নির্ধারণে সফটওয়্যার উদ্বোধন

অনলাইনে বেতন ও পেনশন নির্ধারণের সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, অর্থমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক, মহাহিসাব নিরীক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে সরকারি চাকরিজীবীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে নতুন পে-স্কেলে তাদের বেতন নির্ধারণ করতে পারবেন। একইসঙ্গে পেনশনভোগিরা পেনশনের যাবতীয় কাজ এখন অনলাইনে করতে পারবেন। এই ব্যবস্থায় বেতন ও পেনশন নির্ধারণ হওয়ায় ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগিরা।

সূত্র জানায়, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশের পর প্রজাতন্ত্রের সব চাকরিজীবীদের অনলাইনে বেতন নির্ধারণে ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য অর্থমন্ত্রী উদ্যোগ নেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ‘সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ : অগ্রাধিকার কার্যক্রমসমূহের ধারাবাহিকতা রক্ষা কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর গেজেট হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা কীভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর ও জন্ম তারিখ ব্যবহার করে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করবেন তা দেখানো হয়। এ পর্যায়ে অর্থমন্ত্রীর পেনশন সুবিধা এবং অর্থ সচিবের বেতন নির্ধারণ করে দেখানো হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইনে বেতন ও পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তন হওয়ায় ২৩৬ বছরের পুরোনো ব্যবস্থার অবসান হলো চিরদিনের জন্য। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বেতন নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য হলো, বেতন নির্ধারণের কাজ সহজতর করার পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গতিশীল কর্মচারী ডাটাবেজ প্রস্তুত করা, যা বেতন-ভাতাসংশ্লিষ্ট বাজেট প্রণয়ন এবং হিসাবরক্ষণ কাজে বিশেষভাবে সহায়ক হবে।’

তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হলে বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নির্ভুল ও সহজতর হবে এবং কর্মচারীদের ভোগান্তির লাঘব হবে। বিভিন্ন স্তরে কর্মচারীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় বেতন-ভাতার পরিমাণ, বয়স, অবসরে যাওয়ার সময় ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ ডাটাবেজ থেকে সহজে পাওয়া যাবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য আলাদা কোনো বেতন কাঠামো হবে না। তবে গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের বেতন পাবেন।’

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘আমি নিজেও একজন অবসর নেওয়া সরকারি চাকরিজীবী। আমার পেনশন তুলতে গিয়ে দেখেছি কী ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আমি আশা করছি, নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তন হওয়ায় ওইসব ভোগান্তি চিরদিনের জন্য নির্বাসনে যাবে।’

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) অনেক চাকুরিজীবীর নামের বানান, জন্ম তারিখে ভুল রয়েছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় ওইসব চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী নতুন ব্যবস্থায় বেতন নিধারণে সমস্যায় পড়তে পারেন। অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ সচিব বলেন, ‘বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রায় দুই মাস আগে সবার এনআইডি সংশোধন করে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে, পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ ছাড়া চাকরিজীবীদের চাকরিতে যোগদানের সময়ের তথ্য অনুযায়ী এনআইডি সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে।

অনলাইনে বেতন ও পেনশন নির্ধারণের ওয়েবসাইট : https://www.payfixation.gov.bd/