মেইন ম্যেনু

অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু ডাস্টবিনে নয়, দানবাক্সে ফেলুন

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের দমকল বিভাগের প্রতিটি কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ করেই কিছু লোকজন একটি করে দানবাক্স ঝুলিয়ে দিচ্ছে। ঢাকনা বিশিষ্ট সুরক্ষিত এই দানবাক্সগুলোতে দান করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু কী দান করবে মানুষ? দরিদ্রদের জন্য পুরনো জামা-কাপড়? নাকি কোনো দাতব্য সংস্থার জন্য বইপুস্তক?

নাহ, এসব কিছুই না। দান করতে বলা হচ্ছে শিশু। বাক্সগুলোর নামও দেয়া হয়েছে ‘বেবি বক্স’ বা ’শিশু বাক্স’। বাক্সটির ভেতর আছে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত তাপমাত্রা। অনেকটা বাচ্চাদের ইনকিউবেটরের মতো। বাক্সগুলো সরবরাহ করছে সেফ হেভেন বেবি বক্সেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত গর্ভপাত-বিরোধী একটি প্রতিষ্ঠান। যেকোনো মা-বাবা তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুকে এই বাক্সের ভেতর রেখে যেতে পারেন।

শিশুকে রেখে যাওয়ার পরপরই দমকল কর্মীদের কার্যালয়ে বাজতে শুরু করবে অ্যালার্ম। দায়িত্বরত কর্মীরা এসে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে শিশুটিকে। সেফ হেভেন বেবি বক্সেস‘র কর্মী মনিকা কেলসি বলেন, ‘আমরা বাক্সগুলোকে ভালো কাজে ব্যবহার করতে চাইছি। আপাতত এটা পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। এতে বেশ ভালোই কাজ হচ্ছে। শিশু রেখে যাওয়ার দুই মিনিট ১৫ সেকেন্ড পরে এটি অ্যালার্ম দেয়।’

অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান এবং গর্ভপাত বর্তমান বিশ্বের একটি বড় সমস্যা। সারা বিশ্বে অসুরক্ষিত গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে বছরে প্রায় ৭০ হাজার মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং জটিল পরিস্থিতির কারণে ৫০ লাখ নারীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় চার কোটি ৪০ লাখ গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। বিগত কয়েক দশকের পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষার ব্যাপক প্রচারণার ফলে সম্প্রতি গর্ভপাতের ঘটনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাতেই এই প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলেও বিশ্বের অনেক দেশে বেবি বক্স পদ্ধতিটি বিদ্যমান বলে জানান কেলসি। তবে এ কাজে এখনো জাতিসংঘের কোনো অনুমোদন নেই। কেলসি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা ইন্ডিয়ানাতে এ ধরনের শতাধিক বাক্স ঝুলিয়ে দেবেন।

ইন্ডিয়ানাতে প্রথম এ উদ্যোগ নেয়ার কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্য এটি। গর্ভপাতের ক্ষেত্রে এখানে যেমন বিধিনিষিধ আছে, তেমনি এখানকার মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে তেন সচেতন নয়। আর এ কারণে অঙ্গরাজ্যটিতে অনাকঙ্ক্ষিত জন্মের হারও বেশি। ইন্ডিয়ানার স্কুলগুলোতে যৌনশিক্ষার ক্ষেত্রেও আছে বিধিনিষেধ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় কোনো অঙ্গরাজ্য হিসেবে গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ করেছে ইন্ডিয়ানা সরকার।

কেলসি এবং তার দল ও অন্য গর্ভপাত এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ-বিরোধী গোষ্ঠিগুলো মনে করে, গত বছর ইন্ডিয়ানাতে নতুন যে আইনটি হয়েছে, তাদের এ উদ্যোগের ফলে সে আইনটির কার্যকারিতা আরো বৃদ্ধি পাবে। অর্থসংকটের কারণে আরো বেবি বক্স লাগানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। একেকটি বেবি বক্সের দাম দেড় হাজার থেকে দুই হাজার ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে কত অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুকে মা-বাবা পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যায় তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও কেলসি জানান, এ সংখ্যা ৭৩ থেকে ১০০’র মতো হবে। এদের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকে না। কেলসির এই বেবি বক্স পদ্ধতি কার্যকর হলে এরও একটি সঠিক পরিসংখ্যান জানা যাবে।



« (পূর্বের সংবাদ)