মেইন ম্যেনু

অন্তিম মুহূর্ত কেমন ছিল মোহাম্মদ আলীর ? জানালেন কন্যা হানা

খেলার মাঠে তো তিনি বীর, কিন্তু মৃত্যুর মুখোমুখি কেমন ছিলেন ‌‘দ্য গ্রেটেস্ট’ মোহাম্মদ আলী। কেমন ছিল তার অন্তিম মুহূর্ত? সেই বর্ণনা দিলেন কন্যা হানা, চলে যাওয়ার মুহূর্তে মোহাম্মদ আলীর পাশে ছিলেন তার কন্যাদের একজন।

হানা নামে মোহাম্মদ আলীর ওই কন্যা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাবার চলে যাওয়ার অন্তিম মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যু নিয়ে তার নিজস্ব অনুভূতির কথা। হানা জানিয়েছেন, মৃত্যুর সময় আলীকে জড়িয়ে রেখেছিলেন তার চারপাশে থাকা স্বজনেরা। কেউ কেউ তার হাত ধরে ছিলেন। কেউ কেউ তাকে চুম্বন করছিলেন। সে সময় ইসলামি প্রার্থনায় রত ছিলেন আলীর স্বজনরা।

ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে হানা জানিয়েছেন, ‘আমরা শোকে কাতর। তারপরও আমরা খুশি যে বাবা মুক্ত হয়েছেন। চলে যাবার সময় ফিসফিসিয়ে বাবাকে বলেছিলাম, তুমি চলে যাও বাবা, আমাদের কিছু হবে না। আমরা তোমাকে ভালোবাসি বাবা, তোমার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এখন তুমি ঈশ্বরের কাছে যেতে পার।’

একদিকে তিনবারের বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন, অন্যদিকে ন্যায়-সমতা-যুদ্ধবিরোধিতা-বর্ণবাদবিরোধিতার একজন জোরালো কণ্ঠস্বর ৭৪ বছর আলী দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার তিনি অ্যারিজোনা রাজ্যের ফিনিক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুতে শোকাহত সারা বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছে, জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ লুই ভিলের ইয়াম সেন্টারে রাখা হবে, যেখানে তাঁর অ্যামেচার বক্সিং জীবনের সুচনা হয়েছিল। আর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, কেনটাকির লুইসভিলে শুক্রবার নিজের শহরে মোহাম্মদ আলীর শেষকৃত্য হবে।

বিবিসি তার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আলীর ইচ্ছানুযায়ী ইসলামিক রীতি মেনে শেষকৃত্য হলেও, তাতে অন্য ধর্মমতের ছাপ থাকবে। কেননা নিজেকে একজন বিশ্ব-নাগরিক মনে করতেন আলী। চাইতেন, তার শেষকৃত্যে সব ধর্মমতের মানুষ অংশ নেবে। শেষকৃত্যের্ পর কেভ হিল কবরস্থানে আলীকে সমাহিত করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা।

মুষ্টিযোদ্ধার ২১ বছরের ক্যারিয়ারে মোহাম্মদ আলী মোট ৬১টি লড়াইয়ে অংশ নিয়ে ৫৬টিতে জয় পান। তিনি তিনবার হেভি ওয়েট আর একবার লাই ওয়েট চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তারঁ জন্ম হয়েছিল ১৯৪২ সালের ১৭ই জানুয়ারি, ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে হিসেবে কেনটাকি রাজ্যের লুইভিল শহরে। সূত্র: হেনার টুইটার একাউন্ট, বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, বাংলা ট্রিবিউন