মেইন ম্যেনু

‘অন্ধ’ তাপসের তপস্যা সফল, বারো ক্লাসে ৯৫%

‘অন্ধ’ হলেও তপস্যা সফল, বারো ক্লাসে ৯৫%। CBSE পরীক্ষায় এ বছর ৯৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন দিল্লির তরুণ তাপস ভরদ্বাজ। তাপস ছাড়া আর কেউ এত নম্বর পাননি। কিন্তু এরপরও তাপস ভরদ্বাজের এই কৃতিত্বকে কুর্ণিশ জানাতেই হয়।

কারণ অসাধ্য সাধন করে ফেলেছেন দিল্লি পাবলিক স্কুলের এই ছাত্র। গত আঠারো বছরে প্রকৃতির রং-রূপ কিছুই দেখেননি তিনি। দেখবেন কী, দু’চোখেই তো অন্ধকার। পড়াশোনা JAWS (Job Access With Speech) নির্ভর। কম্পিউটার হাতড়ে জগত্‍ দেখা, নিজের মতো করে।

বলা যায়, ঘুটঘুটে কালো দু’চোখে ভবিষ্যতের আলো খুঁজে চলেছেন ছেলেটি। তাপস ভরদ্বাজের মানসিক দৃঢ়তা তাকে এগিয়ে দিয়েছে অনেকখানি পথ।
তাপস নিজেও স্বীকার করেন এই সাফল্য সহজ ছিল না তার জন্য।

অনেক সময়ই মনে হয়েছে, কিছু বিষয় তার জন্য বড্ড কঠিন। কিন্তু তার জন্য নিজেকে গুটিয়ে নেননি। তাপসের কথায়, ভীতির সঞ্চার হলে সাফল্য আসা কঠিন। আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তাই চেষ্টা করেছি সেই ভীতি কাটিয়ে উঠতে।

ইংরেজি ছাড়াও তার বিষয় ছিল মনোবিজ্ঞান, সমাজবিদ্যা, মিউজিক, লিগাল স্টাডিজ ও কম্পিউটার সায়েন্স। ভবিষ্যতের লক্ষ্য আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

নিজের এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্বই তিনি দিয়েছেন দিল্লি পাবলিক স্কুলের শিক্ষকদের। তার কথায়, শুধু পড়াশোনার পাঠই নয়, শিক্ষকরা প্রথমদিন থেকে নানাভাবে আমাকে উৎসাহিত করেছেন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এ সময়ের স্মার্ট প্রযুক্তি JAWS-এর কাছেও। কম্পিউটার নির্ভর এই প্রযুক্তি তার পড়াশোনায় অনেকখানি সাহায্য করেছে। নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে ব্রেইলে পড়েছেন প্রচুর বই।

ছেলের সাফল্যে গর্বিত বাবা অরবিন্দ রাজ শর্মা জানান, আমরা জানতাম ও দৃষ্টিহীন হলেও ওর মধ্যে সেই ক্ষমতা রয়েছে। ও তা প্রমাণ করে দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সবরকমভাবে ওকে সাহায্য করতে। সূত্র : এই সময়