মেইন ম্যেনু

অপরাধে সম্পৃক্ততা: এক বছরে ৭৬ পুলিশের শাস্তি

ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে তল্লাশির নামে নির্যাতনের ঘটনাটি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে গোটা বাহিনীকেই দেশে। এই ঘটনার দুদিন যেতে না যেতেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তাকে নির্যাতনের সময় ‘দেশের রাজা পুলিশ’ বলে আরও এক কর্মকর্তার দম্ভোক্তির পর আবারও ভাবমূর্তি সংকটে পুলিশ।

কেবল এই দুটি ঘটনা নয়। এ রকম শত শত ঘটনা ঘটলেও গণমাধ্যমে আসে না বা ভুক্তভোগীরা তাদের মান সম্মানের কথা ভেবে প্রকাশও করেন না। কিন্তু মানুষের সঙ্গে পুলিশের বাজে আচরণের কথা শোনা যায় প্রায়ই।

পুলিশের কাছেও আসে এসব অভিযোগ। কেবল বাজে আচরণ নয়, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে বাহিনীটির একাংশের সম্পৃক্ততার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আছে খোদ বাহিনীতে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণও মিলে কখনও কখনও।

বাংলাদেশ ব্যাংক আর ডিসিসি কর্মকর্তাকে পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে পুলিশের তদন্তেও।

পুলিশ সদরদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান বলেছেন, অভিযুক্ত মাসুদ সিকদার ও আরশাদ হোসেন আকাশের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে। প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেবল এই দুই জন নন, অন্যায্য আচরণ আর অপরাধে জড়ানোর দায়ে এ রকম শাস্তি পাওয়ার উদাহরণ ভুরি ভুরি পুলিশে। কেবল ২০১৫ সালেই ৭৬ জনকে চাকরিচ্যুত বা বরখাস্ত করেছে পুলিশ।

পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, গত এক বছরে যাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে কনস্টবল থেকে উপ-পরিদর্শক পর্যন্ত আছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যক্তির স্বাধীন স্বত্ত্বায় কতটুকু হস্তক্ষেপ করা যাবে সেই বিধিবিধান সম্পর্কে বাহিনীর সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কেউ অন্যায় করলে তাকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেয়া হয় না। অপরাধী হিসেবেই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে কিছু কর্মকর্তাদের আচরণে গোটা পুলিশ বাহিনীকে মাপা যাবে না। এতে বলা হয়েছে, পুলিশের এক লাখ ৬৯ হাজার সদস্য রাতদিন মানুষের জীবন, সম্পদ, সম্মান, চলাফেরার নিরাপত্তার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। মানুষকে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে ২০১৫ সালেই সন্ত্রাসী হামলায় পাঁচ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। সন্দেহভাজনদেরকে তল্লাশি করতে হয় মানুষের নিরাপত্তার জন্যই। এই কাজ করা না হলে সমাজ বিপর্যস্ত হয়ে যাবে।