মেইন ম্যেনু

অপরিচিতর সঙ্গে যৌনমিলন করলেই পুণ্যলাভ হয় এই পাহাড়ে

পুণ্যলাভ করতে মানুষ কী-না করে? পুজো, ঈশ্বরের আরাধনা থেকে দান-ধ্যান, তীর্থযাত্রা কত কিছুই। প্রতি ধর্মেই পুণ্যলাভ করার জন্য আলাদা আলাদা রীতি রয়েছে। আবার স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী বদলে যায় পুণ্যলাভের প্রক্রিয়া। ইন্দোনেশিয়ার জাভা শহরের সোলো এলাকায় সারা বছর ধরেই বহু মানুষ আসেন পুণ্যলাভের আশায়। তবে পুণ্যলাভ করতে গিয়ে এখানে মানুষ যা করেন তা আপনার কল্পনারও অতীত।

সোলো হল ইসলাম ধর্মপ্রচারক আবু বকর বশিরের জন্মস্থান। এখানেই পাহাড়ের উপরে রয়েছে একটি উপাসনাগৃহ। যা স্থানীয় মানুষদের কাছে গুনুং কেমুকুস বলেই পরিচিত। পুণ্যলাভের আশায় সারা বছর ধরে এখানেই ভিড় জমান বহু মানুষ। এখানকার রীতি অনুযায়ী, অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সঙ্গমে করলে পুণ্যার্জন করা যায়। ৩৫ দিন অন্তর অপরিচিত পুরুষ বা মহিলার সঙ্গে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হন আগতরা।

বহু বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে। এর পিছনে রয়েছে ইতিহাসও। সোলো এলাকায় একটি সমাধি রয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, রাজা পানেগেরান সামোদ্রো এবং তাঁর সৎ মা নিয়াই আন্ত্রাউলানের সমাধি সেটি। এক সময় সামোদ্রো তাঁর সৎ মাকে সঙ্গে নিয়ে এই এলাকায় আসতেন। এখানকার মানুষ বিশ্বাস করেন, সমাজের চোখে যা খারাপ, তা করলে পুণ্য অর্জন করতে পারে মানুষ। এবং তার জন্য একটি বিশেষ দিনে অপরিচিত পুরুষ বা মহিলার সঙ্গে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হতে হয় পুণ্যার্থীদের। এই রীতি অনুযায়ী, প্রথমে সামোদ্রোর সমাধির সামনে বসে প্রার্থনা করা হয়। এর পরে পুণ্যার্থীকে কোনও পাহাড়ি ঝরনাতে স্নান করতে হয়। ফের ওই এলাকায় ফিরে কোনও অপরিচিত মহিলা ও পুরুষকে খুঁজে, তাঁর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করতে হয়।

এই নিয়ে বিস্তর গবেষণাও হয়েছে। মাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক কোয়েন্টজোরো সোয়েপার্নো জানিয়েছেন, ‘গুনুং কেমুকুসের রীতি অনুযায়ী কোনও পুরুষ বা মহিলা, তাঁর নিজের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে কখনই যৌন সঙ্গম করতে পারেন না। তাঁদের সঙ্গম করতে অপরিচিত কারোর সঙ্গেই। প্রথমে একটি বিশেষ দিনে সঙ্গম করতে হবে। ওই দিনই পরপর সাতবার মিলিত হতে হবে দু’জনকে। এই কাজ করলে দু’জনের সম্পর্ক কম করে ১ বছর টিকে যায়।

সমাধির চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকেন বহু মানুষ। অন্ধকার নামলেই শুরু হয়ে যায় সঙ্গী খোঁজার কাজ। যদিও অধ্যাপক সোয়েপার্নো জানিয়েছেন, এই রীতি ইসলামিক কোনও রীতি নয়। এই রীতির কথা বলা রয়েছে কেজাওয়েন-এ। ওই এলাকায় এই ধর্মই চলে। কেজাওয়েন হল হিন্দু, ইসলাম, বৌদ্ধ ধারণা মিশ্রিত করে তৈরি একটি ধর্ম। ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এই ধর্মের চল রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সোলো এলাকাকে পর্যটনকেন্দ্র কিংবা ধর্মস্থান বলে মনে কললেও ১৯৯০-এ এই এলাকাকে রেড লাইট এলাকা বলে চিহ্নিত করা হয়। এমনকী ওই এলাকা ঘিরে অনেক পতিতালয়ও তৈরি হয়েছে। অধ্যাপক জানিয়েছেন, পুণ্যার্জন ছাড়াও প্রতি বছর অনেক মানুষ এখানে এসে যৌনকর্মীর কাজ করেন। তাঁদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের তরফে হেল্‌থ ক্লিনিকও চালু করা হয়েছে।

তবে এই এলাকাকে শুধুমাত্র যৌনকর্মীদের আখরা বলতে রাজি নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, মানুষের রীতি থেকে যৌনতার দৃষ্টিভঙ্গি সরিয়ে রাখা উচিৎ। তাঁদের কাছে সোলো হল ধর্মস্থান।