মেইন ম্যেনু

অপহরণের ৫ দিন পর মাটির সুড়ঙ্গ থেকে ৮ম শ্রেণির ছাত্র উদ্ধার

অপহরণের ৫দিন পর একটি ঘরে মাটির সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রকে রোববার ভোররাতে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণকারীরা ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল তার বাবার কাছে। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কসবা কৃষ্ণনগরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

উদ্ধার হওয়া ৮ম শ্রেণির ছাত্র ফরিদুল ইসলাম (১২) মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের কসবা কৃষ্ণনগর গ্রামের আতোয়ার রহমানের ছেলে। অপহরণকারী দলের আটক ২ জন হলেন- কসবা কৃষ্ণনগর গ্রামের শফি উদ্দিন (৫৫) ও সাইদুল (৩৮)।

থানা সূত্রে জানা যায়, ২৩ ডিসেম্বর ফরিদুল বদরগঞ্জের নাগেরহাট থেকে বাজার করে বাড়ি ফিরছিল। সেখান থেকে তার পিছু নেয় অপহরণকারী দলের সদস্যরা। মিঠাপুকুর থানা সীমান্তে বাড়ির কাছে পৌঁছামাত্র শফি ও সাইদুল পেছন দিকে থেকে ফরিদুলকে ডাক দেন। এরপর তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় অপরণকারী দলের অপর সদস্য শরিফুল (২২) এর বাগান বাড়িতে। সেখানে একটি টিনসেড ঘরের ভেতর ৫/৬ হাত গভীর গুহার মধ্যে দুটি সুড়ঙ্গ ছিল। গুহার মুখে একটি বড় আকারের বাক্স ছিল। বাক্স দিয়ে ওই গুহার ভেতর যাতায়াত করা যেত। সেখানেই ফরিদুলকে আটক রাখা হয়। খাবারও দেওয়া হতো তাকে।

২৫ ডিসেম্বর অপহরণকারীরা মোবাইলফোনে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ফরিদুলের বাবার কাছে। তিনি বিষয়টি এলাকাবাসি এবং থানা পুলিশকে জানান। এলাকাবাসি অপহরণে জড়িত সন্দেহে এলাকার চিহ্নিত ডাকাত সাইদুল ও শফিকে আটক করে পুলিশে দেয়।

এসময় অপহরণকারীদলের অপর সদস্য শরিফুল পালিয়ে যায়। মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবীরের নিদের্শে এএসআই প্রদীপ কুমার রায় একদল পুলিশ নিয়ে শনিবার রাতে শরিফুলের বাগানে অভিযান পরিচালনা করেন।

এসময় বাগানের মাঝে একটি টিনসেডের ঘরে বড় আকারের বাক্স দেখতে পায় পুলিশ। বাক্সটি খুললে ৫/৬ হাত গভীর কুপের সন্ধ্যান পাওয়া যায়।

পরে ওই কুপে নেমে আরও দুটি সুড়ঙ্গ আবিস্কার করেন পুলিশ সদস্যরা। সেখান থেকেই অপহৃত ফরিদুলকে উদ্ধার করা হয়। তার গলায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আটক ওই ২ অপহরণকারী রোড ডাকাতি, ছিনতাই ও নানা অপরাধের সাথে জড়িত।