মেইন ম্যেনু

অপূর্ণ প্রেম, শেষে রেল লাইনে ঝাঁপ; কিন্তু ঘটল অলৌকিক…

সেই ছোট্ট বেলার প্রেম। নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে গিয়ে যৌবনে বাস্তবে রূপ পায়নি। কিন্তু তার পরেও মনের মধ্যে সেই প্রেম নিয়ে স্বপ্ন থেকেই গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ছোট বেলার অপূর্ণ প্রেমকে মান্যতা দিতে প্রেমিকাকে সাথে নিয়ে রেল লাইনে মরণ ঝাঁপ দিলো প্রেমিক। কিন্তু রাখেন হরি মারে কে? ভাগ্যের সুপ্রসন্নতায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছে দুজনাই। উত্তর দিনাজপুরের ঝিটকিয়া এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই ঝিটকিয়ার জাহিরুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল স্থানীয় আরজিনা খাতুনের। পরবর্তীকালে পরিবারের চাপে বাধ্য হয়েই অঞ্জলি খাতুন নামে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করতে সে। পুত্রসন্তান জন্মানোর দু’মাস পরেই জীবিকার স্বার্থে দিল্লী পাড়ি দেয় জাহিরুল। দিল্লিতে থাকাকালীন প্রাক্তন প্রেমিকা আরজিনা খাতুনের সঙ্গে ফোনে পুনরায় যোগাযোগ তৈরি হয় তার। যদিও আরজিনারও তখন অন্যত্র বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তবুও প্রাক্তন প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের সংসার ছেড়ে সেও দিল্লি পাড়ি জমায় আরজিনা। নতুন করে পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে স্বপ্নের ঘর বাঁধে সে। এরই মাঝে এক সন্তানের জন্মও দেয় তারা। সম্প্রতি দিল্লি থেকে আরজিনাকে সঙ্গে নিয়েই ঝিটকিয়াতে নিজের বাড়ি ফেরে জাহিরুল। কিন্তু পরিবারের লোকজন এই সম্পর্ক মেনে নেননি কেউই। তাদের বাড়ি ঢুকতে বাধা দেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদেই এক সঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় আরজিনা ও জাহিরুল দুইজনেই।

সেইমতো মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ ঝিটকিয়া রেল স্টেশনের সামনে চলে আসে দু’জন। ডাউন কাটিহার-রাধিকাপুর ট্রেন স্টেশনের সামনে আসতেই রেল লাইনে ঝাঁপ দেয় জাহিরুল। আত্মহত্যার ব্যাপারটি আঁচ করে স্থানীয় লোকজন আরজিনাকে আটকে দেয়। কিন্তু ভাগ্যের জোরে রেল লাইনের মাঝে পড়ায় প্রাণে বেঁচে যায় জাহিরুল। তবে আতঙ্কে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। পরে জি আর পি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জাহিরুলকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

জাহিরুলের প্রথম পক্ষের স্ত্রী অঞ্জলি খাতুন জানান, জাহিরুল আরজিনার মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক ছিল। পরিবারের অজ্ঞাতসারেই তারা বিয়ে করে। স্বাভাবিক কারণেই আমার শ্বশুর তাদেরকে বাড়িতে ঢুকতে দেননি।

অন্যদিকে আরজিনা খাতুন বলেন, ‘জাহিরুলকে আমি ভালোবাসি। নিয়ম মেনেই আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমাদের ভালোবাসাকে স্বীকৃতি না দেওয়াতেই আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম।’