মেইন ম্যেনু

অপেক্ষা এবার মীর কাসেম আলীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের

একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বদর নেতা মীর কাসেম আলীর দণ্ড কার্যকর করার আগে এবার অপেক্ষা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের। গত ৮ মার্চ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির জন্য অপেক্ষা করছে রাষ্ট্র ও আসামি দুই পক্ষেরই আইনজীবীরা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অনুলিপি হাতে পেলেই সুপ্রিমকোর্টের রায় পর্যালোচনার আবেদন (রিভিউ) পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন। আবার মীর কাসেম আলী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ারও সুযোগ পাবেন। আর এই দুটো বিষয় নিষ্পত্তির পরেই ফাঁসির দণ্ড কার্যকর কর করা যাবে।

কাশেমপুরের কেন্দ্রীয় কারাগারে মীর কাসেম আলীকে আপিল বিভাগে রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর তার ফাঁসি বহাল থাকার খবর শোনানো হয়েছে। তবে তিনি তখন কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, কারাগারের ৪০ নম্বর কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন মীর কাসেম আলী। মীর কাসেমের কক্ষে টেলিভিশন কিংবা রেডিও না থাকায় বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রায় ঘোষণার বিষয়টি তিনি জানতে পারেননি। তবে ৮ মার্চ দুপুরে মীর কাসেম আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল বিভাগের রায় জানানো হয়েছে। রায় শোনার পর তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। তবে দুপুরে তিনি খাবার খেয়েছেন।

আপিলের রায়ে বলা হয়, আসামিপক্ষে আনা আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হয়েছে। প্রসিকিউশন আনীত অভিযোগের মধ্যে ৪, ৬ ও ১২ নং অভিযোগ থেকে মীর কাসেম আলীকে খালাস এবং ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া দণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

রায় ঘোষনার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড সর্বোচ্চ আদালতও বহাল রেখেছে। রায়ে প্রত্যাশিত ফল পেয়েছি। যুদ্ধাপরাধী যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন ছাত্রসংঘের নেতৃত্বে থেকে পাক বাহিনীর সহয়োগী আলবদর বাহিনী করেছেন তাদের মধ্যে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সর্বোচ্চ দন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রসংঘের ওই সময়ের সেক্রেটারী জেনারেল মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সর্বোচ্চ দন্ডে দন্ডিত হলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ১১ নম্বর অভিযোগে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে আটক, নির্যাতন ও হত্যার দায়ে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগ রায়ে প্রমাণিত হয়েছে।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপিলের ওপর আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য ৮ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় ছাত্রসংঘের বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র আলবদর বাহিনীর চট্রগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে মীর কাসেম আলী মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান, তা ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়। ইতোমধ্যে আপিলের রায়ে তা প্রমাণিত হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলের দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশন থেকে গ্রেফতার হন মীর কাসেম আলী। গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।