মেইন ম্যেনু

অবশেষে ওবামার দাওয়াত পেল মোহাম্মদ

আহমেদ মোহাম্মদ ১৪ বছরের এক কিশোর শিক্ষার্থী। বাড়িতে নিজ হাতে তৈরি করা একটি ঘড়ি স্কুলে এনে চরম বিপদে পড়ে। ঘড়িটিকে বোমা ভেবে তার এক শিক্ষক পুলিশকে খবর দেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত শেষে জানা যায়, বোমা নয়, এটি সত্যিই একটি ঘড়ি।

ঘড়ি তৈরির অপরাধে একজন কিশোর শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ পর্যন্ত এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অবশেষে উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী আহমেদ মোহাম্মদকে হোয়াইট হাউসে দাওয়াত দিয়েছেন ওবামা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোহাম্মদের গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মোহাম্মদকে কি তার নাম ও ধর্মের কারণেই সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে? তাই যদি হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য জঘন্য ঘটনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আহমেদ মোহাম্মদের গ্রেফতারের বিষয়টি পশ্চিমা গণমাধ্যমসহ বিশ্ব গণমাধ্যমে সোমবার থেকে ঘুরে ফুরে খবর হচ্ছে। সোমবার বাড়িতে তৈরি করা একটি ঘড়ি তার শিক্ষককে দেখাতে স্কুলে নিয়ে যায় মোহাম্মদ। কিন্তু যে শিক্ষককে দেখানোর কথা, তাকে না দেখিয়ে অন্য এক শিক্ষককে দেখায় সেটি। এতে ঘটে যায় তুলকালাম কা-। ঘড়িটিকে বোমা ভেবে আতঙ্কিত হন ওই শিক্ষক। একই কারণে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয় সঙ্গে সঙ্গে। পুলিশ এসে মোহাম্মদকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

mD

মোহাম্মদের তৈরি ঘড়ি, যেটিকে বোমা ভেবে তার শিক্ষক পুলিশকে খবর দেন

 

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকআরথার হাই স্কুলের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ। একজন কিশোরের ঘড়ি তৈরির সক্ষমতাকে প্রশংসা করেছেন ওবামা। তিনি মোহাম্মদকে তার তৈরি ঘড়িটি হোয়াইট হাউসে আনার জন্য বলেছেন। একই সঙ্গে শিশুদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহ দেওয়ার কথা বলেছেন ওবামা।

সোমবার গ্রেফতার হওয়ার পর বুধবার বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হয় মোহাম্মদকে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ গণমাধ্যমের সামনে আসে। গ্রেফতার হওয়ার পর তার অনুভূতি ব্যক্ত করে সে। মোহাম্মদ বলে, ‘গ্রেফতার হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, আমি মানুষ নই, সন্ত্রাসী।’