মেইন ম্যেনু

অবশেষে নেতাজি সম্পর্কিত গোপন নথি প্রকাশ্যে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত হলো নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সংক্রান্ত ৬৪টি গোপন নথি। শুক্রবার প্রকাশিত নথির ডিজিটাল কপির সিডি তুলে দেয়া হয় বসু পরিবারের সদস্যদের হাতে।

শুক্রবার এক অনুষ্ঠানের কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুরজিত্‍ কর পুরকায়স্থ প্রকাশিত নথির ডিজিটাইজড কপিগুলির সিডি বসু পরিবারের সদস্য এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেন। সিডি-তে সংকলিত হয়েছে এযাবৎ অপ্রকাশিত ফাইলের ১২ হাজার ৭৪৪টি পাতা। এসব নথি কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের হেফাজতে ছিল।

কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানান, গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো প্রকাশ করে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা হলো। মোট ৬৪টি ফাইলের ১২ হাজার ৭৪৪টি পাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয়েছে। মূল ফাইলগুলো কাচের ক্যাবিনেটের ভেতরে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরের পুলিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হয়েছে।

নথিফাইলগুলোর সময়সীমা ১৯৩৭-১৯৪৭ সাল। কয়েকটি ফাইলে পাতার সংখ্যা ৩০০ পর্যন্ত রয়েছে। পাতায় উল্লেখিত নথি সম্পর্কে মার্জিনের প্রান্তে হাতে লেখা মন্তব্য ও নোট রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে আরো রয়েছে সুভাষচন্দ্র এবং তার দাদা শরৎ চন্দ্র বসুর মধ্যে পত্রালাপের কপি।

এছাড়া বিভিন্ন সভায় নেতাজির ভাষণ সম্পর্কে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগের পর্যালোচনাও সংকলিত হয়েছে প্রকাশিত ফাইলে।
হস্তান্তরকৃত নথি

নথি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেতাজি পরিবারের বহু সদস্য। ছিলেন সাবেক তৃণমূল সাংসদ তথা শরৎ চন্দ্র বসুর পুত্রবধূ কৃষ্ণা বসু এবং সুভাষচন্দ্রের নাতি চন্দ্রকুমার বসু।

আগামী সোমবার থেকে প্রকাশিত ফাইলগুলোর সিডি জনসাধারণের জন্য বিতরণ করা শুরু হবে। ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে সিডি দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর নেতাজি সম্পর্কিত পুলিশের হেফাজতে থাকা গোপন ফাইল প্রকাশের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে নথি প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, ১৯৪৫ সালের পরেও নেতাজি সম্ভবত বেঁচে ছিলেন। এ নিয়ে পশ্চিতবঙ্গে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারকেও নেতাজি সম্পর্কিত সব নথি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা তথা নেতাজি-গবেষক বরুণ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর যে তত্ত্ব খাড়া করা হয়, তা মিথ্যা।

আবার ইতিহাসবিদ রজতকান্ত রায়ের দাবি, একাধিক তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, ১৯৪৫-এই নেতাজির মৃত্যু হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষাতেই সত্য সামনে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

সব মিলিয়ে দশকের পর দশক ধরে যে বিষয় নিয়ে বিতর্ক চলছে, নেতাজি সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ্যে আসার দিন মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তা আবার মাথাচাড়া দিল।