মেইন ম্যেনু

অবসরের বয়স ফের বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের!

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী তথা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স আবারো বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে দাপ্তরিক ও বিধিগত বিষয় পর্যালোচনা করে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেছে। আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত সভায় এটি উপস্থাপন করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র। অবশ্য কালকের মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য এটি আলোচ্যসূচিতে নেই। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে এটি আলোচনায় আসতে পারে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী গতকাল শনিবার বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণ গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়টিও অলোচনায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন এ সিনিয়র কর্মকর্তা। তবে মন্ত্রিসভা যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে সেভাবেই মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে-এ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা হবে না।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর করা বিষয়ক একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রস্তাবটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বিধান অনুযায়ী এটি কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণ না করায় সংক্ষুব্ধরা আদালতের শরণাপন্ন হন। প্রথমে হাইকোর্ট পরে আপিল বিভাগ একই নির্দেশনা দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের আদেশ দেন। যদিও আদালত মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা জারি করেননি। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভাকেই স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারা এখন প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে। মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স বাড়ানোর ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেয়ার জন্য মন্ত্রিসভাকে পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত: ইতিমধ্যে যেসব মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারী অবসরে গেছেন তাদের সুবিধা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, দ্বিতীয়ত: যারা অবসর পরবর্তী (পিআরএল) ছুটিতে আছেন তারা এ সুবিধা পাবেন কি না, তৃতীয়ত: বাড়ানো হলে কত বছর বাড়ানো সঙ্গত হবে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স বাড়ানো হলে সাধারণ গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়ার প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছে মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, এখন মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসরের বয়স ৬২ বছর আর সাধারণ গণকর্মচারীর অবসরের বয়স ৬১ বছর করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। এর আগে গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স প্রথমবার বাড়ানো হয় ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর। এসময় ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইন সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালের ৩ ফেরুয়ারি আলোচ্য আইন পুনরায় সংশোধন করে সকল ধরনের গণকর্মচারীর অবসরের বয়স ৫৯ বছর করা হয় আর মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসরের বয়স করা হয় ৬০ বছর। প্রসঙ্গত, দেশে গণকর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর সংখ্যা কমবেশি ৫ হাজার।

এদিকে বয়স বাড়ানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তিও উঠেছে। কারণ বয়স বাড়ানো হলে পদোন্নতির সুযোগ খুব কাছে থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। অনেক সময় পরিবেশ পরিস্থিতির ভিন্নতায় কপাল ভাঙ্গে অনেকের। সেজন্য বয়স বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন প্রশাসনের অনেকেই। তবে দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়, বিচারালয়, পিএসসি ও গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অবসরের বয়স অনেক বেশি। ক্ষেত্র মতে ৬২, ৬৫ ও ৬৭ বছর পর্যন্ত। তাছাড়া সীমিত সংখ্যক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ধারায় প্রজাতন্ত্রেও অবসরের বয়স অনেক ক্ষেত্রে ৬৫ বছর পার হয়ে যায়। ৬৫ বছর প্রজাতন্ত্রে কাটিয়েও অনেকে ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পিএসসি, নির্বাচন কমিশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে কাজ করছেন। সে বিবেচনায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অবসরের বয়স বাড়ানোটা যৌক্তিক বলেও মনে করছেন অনেকে।-ইত্তেফাক