মেইন ম্যেনু

দিনাজপুরে ব্যারি. মাহবুব উদ্দিন খোকন

অবসর গ্রহণের পর রায় লেখার কোন অধিকার নেই

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিষ্টার এ এন এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, অবসর গ্রহণের পর রায় লেখার কোন অধিকার নেই। সাবেক কোন বিচারপতির পক্ষে মামলার রায় লেখা ও রায়ে স্বাক্ষর করা আইন পরিপন্থি। সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক। একমাত্র সুপ্রিম কোর্টই পারে সংবিধানের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে। তাই বর্তমান বিচারপতি এসকে সিনহা এ ব্যাপারে সংবিধানের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা সঠিক। তার আইনী ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে তৎকালিন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক অবসর গ্রহণের পর তত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের যে রায় দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।
শনিবার (২৩ জানুয়ারী) বেলা সাড়ে ১২টায় দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নিজস্ব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম দিনাজপুর জেলা ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুব উদ্দীন খোকন এসব কথা বলেন।
ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বর্তমানে দেশে সাংবিধানিক সংকট বিরাজ করছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে আজকের কাউন্সিলর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করবে। মামলা-হামলা ও পুলিশী নির্যাতনের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারছেন না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। দেশে যদি নিরপেক্ষ ভোট হয় তবে আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় যেতে পারবে না। সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে। বিএনপি নাশকতায় বিশ্বাস করে না। সরকার দলীয় লোকেরা নাশকতা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ফাঁসিয়েছে। তিনি দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভুমিকা পালনের আহবান জানান।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. আব্দুল হালিম’র সভাপতিত্বে কাউন্সিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য এ্যাড. মো. সানাউল্লাহ মিয়া, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. লুৎফর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক নাজনুর রহমান শাহ্ চৌধুরী মুকুর।
আইনজীবী ফোরাম সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব আলহাজ্ব খয়রাত আলীর উপস্থাপনায় কাউন্সিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক জিপি প্রবীন আইনজীবী মো. আব্দুল মোতালেব, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল আমিন, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জেড মর্তুজা চৌধুরী তুলা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম মন্টু, আইনজীবী ফোরাম জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি কবির বিন গোলাম চার্লি, আইনজীবী ফোরাম জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আ ন ম হাবিবুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা মো. সাখাওয়াত হোসেন, কোষাধ্যক্ষ এমাম আলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এ্যাড. নাগমা পারভীন জেবা, ফোরাম নেতা ফিরোজ ইব্রাহিম প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান উজ্জল, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সাবেক পিপি মো. আব্দুস সাঈদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. আবু আলীসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম জেলা ইউনিটের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হলেন- এ্যাড. মোল্লা মো. সাখাওয়াত হোসেন, এ্যাড. আ ন ম হাবিবুল্লাহ ও এ্যাড. মো. আনিসুর রহমান চৌধুরী। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বি ৩ জন প্রার্থী হলেন- এ্যাড. আনোয়ারুল আজিম সরকার খোকন, এ্যাড. রইস উদ্দীন ও এ্যাড. আবু মাসুদ ওবায়দুল্লাহ তারেক।
উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম দিনাজপুর জেলা ইউনিটের নির্বাচনে ৭ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন- সভাপতি মো. আব্দুল হালিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি কবির বিন গোলাম চার্লি ও মো. সাইফুল ইসলাম-২, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান খান বিপুল ও মো. মাহাফুল আলী চৌধুরী এবং কোষাধ্যক্ষ পদে এমাম আলী। কাউন্সিলে ২৮টি সম্পাদকীয় পদসহ ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নির্বাচন করা হবে। ১৭০ জন ভোটার ভোট দিয়ে তাদের নেতা নির্বাচিত করেন।