মেইন ম্যেনু

অবহেলা অযত্নে পড়ে আছে রাণীনগরের আতাইকুলার গণকবর

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা: নওগাঁর রাণীনগরের আতাইকুলা গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী একমাত্র ঐতিহাসিক গণকবরটিতে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বিরোধী যুদ্ধে নওগাঁ জেলার অন্যান্য উপজেলার মত রাণীনগরের আতাইকুলা গ্রামবাসি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। সেই সময় যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের সেই গণকবরটি এখন অবহেলা অযতেœ ঝোপ-ঝাড় জঙ্গলের মধ্যে পড়ে আছে ১৯৭১ সালের ২৫এপ্রিল পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ৫২ জন শহীদের আতাইকুলা গ্রামের গণকবরটি। শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখন পর্যন্ত পাইনি কোন সাহায্য সহযোগীতা ও রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত ওই পরিবারের সদস্যরা আজও পাইনি কোন বিধাব কিংবা বয়স্ক ভাতা। বাড়ির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ওই সব শহীদ পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। গণকবরটি শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্মৃতি ধরে রাখার লক্ষ্যে পারিবারিক উদ্যোগে কোন রকমে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘিড়ে রেখেছে মাত্র।

রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিন-পশ্চিমে ছোট যমুনা নদীর তীরে মিরাট ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী আতাইকুলা পালপাড়া গ্রাম। গ্রামবাসির অপরাধ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেসর ঐতিহাসিক ৭মার্চের ভাষণে উদ্ধবধ্য হয়ে দেশ মাতৃকাকে পাক-হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তারা মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করে অস্ত্র হাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিল। ১৯৭১ সালে ২৫ এপ্রিল ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের নিধন করার লক্ষ্যে গ্রামবাসিরা কোন কিছু বুঝার আগেই হানাদার খানসেনা ২’শতাধিক নরপশুর একটি দল ওই দিন সকাল অনুমান ৯টার দিকে আতাইকুলা পালপাড়া গ্রামের পূর্বদিকে কুজাইল বাজারে উপস্থিত হয়ে পাকিস্তানের পতাকা হাতে নিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়। অবস্থা দেখে ওই গ্রামের কিছু লোক নদীর পশ্চিম তীর থেকে পালানোর চেষ্ঠা করলেও হানাদার বাহিনীর সহযোগী স্থাণীয় রাজাকার আলবদররা তাদেরকে বাঁধা দেয়। পাক-বাহিনিরা নদী পার হয়ে এসে পালপাড়া গ্রাম চার দিকে ঘিরে ফেলে। হতভাগ্য পালপাড়া গ্রামবাসি বুঝতে পারলো পরিবারের সবাইকে আজ মরতে হবে। ঘটে ছিলও তাই। সারা গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ওই গ্রামের যগেশ্বর পালের বৈঠকখানার আঙ্গিনায় একত্রিত করলো তারা। এরপর শুরু হয় পাক-সেনাদের বর্বরতা নির্যাতন। সারাদিন ধরে চলে ঘরে ঘরে হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষন অগ্নিসংযোগসহ মর্মস্পর্শী নির্যাতন। সারা দিনের নিমর্ম অত্যাচারে গ্রামের বাতাস ভারি হয়ে আসে। নরপশুদের হাতে বন্দী নর-নারী শিশুরা পাথর হয়ে যায়। যার যা কিছূ টাকা-কড়ি, সোনা-দানা ছিল তুলে দিয়েছিল তাদের হাতে। কিন্তু তাতেও সেদিন বৈঠকখানার বন্দীদের ছাড়েনি ওরা। বিকেল ৪টার দিকে তারা গ্রাম ত্যাগ করার আগে ওই বৈঠকখানার আঙ্গিনায় বন্দীদের ওপর চালালো উপর্যুপরি মেশিনগানের ব্রাশফায়ার। গুলিতে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে মারা গেল নিরীহ গ্রামবাসির মধ্যে শ্রী গবিন্দ্রনাথ চরন পাল, জগেনন্দ্রনাথ, শুরেশ্বর পাল ও তার ছেলে প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার পাল, শুনিল কুমার পালসহ ৫২টি তাজা প্রান। ঘটনাক্রমে ওইদিন গুরত্বর আহত অবস্থায় প্রানে রক্ষাপায়, শ্রী সুনীল চন্দ্র পাল, সাধন চন্দ্র পাল। দেশ স্বাধীনের ৪৪বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারের খোঁজ-খবরসহ এখানকার গণকবরের উন্নয়নে কেউ ভূমিকা রাখেনি। তাদের দাবি শেষ মূহূর্তে হলেও শহীদদের স্কীকৃতি ও গণকবরটি সংরক্ষন করা হোক।
এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী আবু মোঃ শফিউল আযম জানান, স্থাণীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী’র নির্দেশনা মোতাবেক মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সমূহ বধ্যভূমি/গণকবর সংরক্ষনের নিমিত্তে আতাইকুলা গণকবরের সংরক্ষন ও উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা পেলেই গণকবরটি উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



« (পূর্বের সংবাদ)