মেইন ম্যেনু

অবাক কান্ড! ইচ্ছে শক্তি নিয়েই পাহাড় কেঁটে রাস্তা বানালেন এই বৃদ্ধ

দুর্গম পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়েছিলেন তিনি। সেলুলয়েডও সে কৃতিত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছে। এবার সেরকমই এক অসাধ্যসাধন করলেন কেরলের প্রৌঢ়। প্রায় অসাড় শরীর নিয়েও টানা তিন বছরের চেষ্টায় আস্ত একটা রাস্তা তৈরি করে ফেললেন তিনি।

বছর ৫৯ এর শশীর শরীরের একটা দিক প্রায় অসাড়। বহুকাল আগে নারকেল গাছ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। ছোটখাটো একটা ব্যবসার কথা ভেবেছিলেন। গ্রামের পঞ্চায়েতের কাছে অনুরোধ করেছিলেন গাড়ির জন্য। কিন্তু প্রায় অচল একটা মানুষকে গাড়ি তো দেওয়াই হয়নি। এক তো শরীর ঠিক নেই। তায় গাড়ি চালানোর জন্য রাস্তাই নেই। তিন চাকার গাড়ি চলতে যেটুকু প্রশস্ত রাস্তা দরকার তাও তাঁর বাড়ির কাছে ছিল না। রাস্তা করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষমেশ তা হাসাহাসিতে পর্যবসিত হয়।

কোনও দিক থেকে কোনও সুরাহা হচ্ছে না দেখে একদিন নিজেই হাতে কোদাল তুলে নিয়েছিলেন। পণ করেছিলেন নিজের রাস্তা নিজেই তৈরি করে নেবেন। অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। একজন অসুস্থ লোক কী করে তা সম্ভব করে তুলবেন।

অনেকে ভেবেছিলেন কটাদিন গেলেই উদ্যম হারাবেন তিনি। কিন্তু নাছোড়বান্দা শশী হাল ছাড়েননি। তিন বছর ধরে একটু একটু করে চেষ্টা করে অবশেষে একটা রাস্তা তৈরি করে ফেলেছেন। বিস্মিত প্রতিবেশীরা। যাঁরা এককালে মুখ টিপে হেসেছিলেন আজ তাঁদের মুখে কুলুপ। অসম্ভবকে সম্ভব করতে সকলেই পারেন না, কেউ কেউ পারেন। কোথা থেকে পেলেন এই ইচ্ছেশক্তি? জানেন না প্রৌঢ়। শুধু তাঁর মুখে লেগে স্মিত হাসি। বলছেন, পঞ্চায়েত আমাকে একটা গাড়ি দেয়নি। গ্রামের মানুষ একটা রাস্তা তো অন্তত পেলেন।-সংবাদ প্রতিদিন