মেইন ম্যেনু

অবাক ঘটনা, ২০১৭ সালে বিমানটি ছেড়ে পৌঁছাল ২০১৬ সালে!

তখন রাত ১২টা ১৫ (স্থানীয় সময়)। মাত্র ১৫ মিনিট আগেই নতুন বছরে পা দিয়েছে চীন। চারিদিকে আলোর রোশনাই। সাংহাইয়ের আকাশে তখন নানা রঙের ছটা। এদিকে ফ্লাইট ধরার তাড়াহুড়োয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান ঠিক করে উপভোগই করতে পারেনি জিমি ক্যানভাস, স্টুয়ার্ট মার্টিনরা। কারণ যেতে হবে সান ফ্রান্সিসকো।

তবে ক্যানভাস মেয়েকে ফোনে আগে থেকেই বলে রেখেছে, নতুন বছর শুরুর আগেই বাড়ি ফিরবে। শেষমেষ মেয়েকে দেওয়া কথা রেখেছে সে। নতুন বছর পড়ার আগেই পৌঁছেছে বাড়ি। অর্থাৎ সাংহাইয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের পর যোগ দিতে পেরেছে সান ফ্রান্সিসকোয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে। ভাবছেন এটা কী করে সম্ভব ? দুটো শহর

তো দু’প্রান্তে অবস্থিত। আর ফ্লাইটে সাংহাই থেকে সান ফ্রান্সিসকো যেতে লাগে ১১ ঘণ্টা। কিন্তু, সময়ের দিক দিয়ে সাংহাইয়ের থেকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পিছিয়ে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো।

ঘটনাটি ঠিক কী ? ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি রাত ১২টা ১৫-তে সাংহাই থেকে ছেড়েছিল সান ফ্রান্সিসকোগামী UA890 বোয়িং 787-909 ফ্লাইটটি। সান ফ্রান্সিসকো পৌঁছতে বিমানটির সময় লাগে ১১ ঘণ্টা ৫ মিনিট। তবে, সময় এগোয়নি। বরং পিছিয়েছে। তাই সান ফ্রান্সিসকোতে বিমানটি পৌঁছায় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধে ৭টা ২০-তে।

মূলত আমরা সময়ের হিসাব করি দ্রাঘিমাংশের অংক ধরে। গ্রিনিচ মেন টাইমকে সময়সীমা হিসেবে ধরা হয়। লন্ডন থেকে ১২১.৪৭৩৭ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থান করেছে সাংহাই। অর্থাৎ, লন্ডন থেকে সাংহাইের সময় প্রায় ৮ ঘণ্টা এগিয়ে। এদিকে, লন্ডন থেকে ১২২.৪১৯৪ ডিগ্রি পশ্চিমে অবস্থান করেছে সান ফ্রান্সিসকো। প্রতি ঘণ্টা ১৫ ডিগ্রি দিয়ে ভাগ করলে ৮ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় আসবে। সান ফ্রান্সিসকো আবার লন্ডনের থেকে ৮ ঘণ্টা পিছিয়ে। সাংহাই থেকে লন্ডন ৮ ঘণ্টা পিছিয়ে, লন্ডন থেকে সান ফ্রান্সিসকো আরও ৮ ঘণ্টা পিছিয়ে।

তাহলে হিসেব দাঁড়াচ্ছে, সাংহাই থেকে সান ফ্রান্সিসকো ১৬ ঘণ্টা পিছিয়ে। এই কারণেই ২০১৭-র ১ জানুয়ারি সাংহাই থেকে বিমান ছাড়ার পরও তা ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২০ নাগাদ গিয়ে পৌঁছান সান ফ্রান্সিসকোয়।