মেইন ম্যেনু

অবিকৃত মৃতদেহের বয়স আড়াই হাজার বছর!

ডেনমার্কের জাটল্যান্ড পেনিনসুলায় তোলান্ড গ্রাম । দুই ভাই‚ ভিগো আর এমিল গিয়েছিলেন জ্বালানি সংগ্রহে । গ্রামের কাছেই এক জলাজমি-খাদানে । হাতে হাতে সাহায্য করছিল তাঁদের দুজনের বৌ-রা । হঠাৎ নজর আটকে যায় দুই স্ত্রীলোকের মধ্যে একজনের । পিটের মধ্যে ওটা কী ? কাছে গিয়ে দেখা গলে একটি মৃতদেহ । জলাজমির স্তর সরে যাওয়ায় বেরিয়ে পড়েছে । দেখেই ছুট লাগালেন চারজনে । খবর গেল পুলিশে । সবাই তখন নিশ্চিত‚ এটা নির্ঘাৎ সদ্য খুন হওয়া কেউ । সেই আবিষ্কার ছিল ১৯৫০-এর মে মাসের ঘটনা ।

ভুল ভাঙল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে । জানা গেল‚ নিছক খুনের ঘটনা নয় । ভিগো-এমিল এবং তাঁদের পরিবারের দৌলতে সমানে এসেছে এক ঐতিহাসিক আবিষ্কার । এই দেহ ওই খাদানে পড়ে আছে গত দু হাজারের বেশি সময় ধরে ! প্রাকৃতিক ভাবে মামিকৃত হয়ে এতটাই অবিকৃত‚ দেখে মনে হচ্ছে যেন মারা গিয়েছেন দিনকয়েক আগে ! আবিষ্কৃত দেহের নাম হয়ে যায় ‘বগ বডি‘ ।

ঐতিহাসিকদের মতে‚ খ্রিস্টপূর্ব ৩৭৫-২১০ অব্দে মারা গিয়েছিলেন এই ব্যক্তি । তখন স্ক্যান্ডিনেভিয়া জুড়ে চলছে প্রাক-রোমান সভ্যতার লৌহ যুগ । সে সময় সম্ভবত ধর্মীয় কারণে বলি দেওয়া হয়েছিল এই ব্যক্তিকে । কারণ‚ তাঁকে রাখা হয়েছিল Foetal Position-এ । অর্থাৎ মাতৃগর্ভে যেভাবে ভ্রূণ থাকে‚ সেভাবে । আর তার চোখের পাতা ছিল বন্ধ করা ।

পরীক্ষায় জানা গিয়েছে মৃত্যুর সময়ে ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ৪০ বছর । উচ্চতা ছিল ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি । মাথায় ছিল উল আর ভেড়ার চামড়ার টুপি । সেটি থুতনির নীচে ফিতে দিয়ে বাঁধা । পরনে আর কোনও পোশাক ছিল না । দেহের মস্তিষ্ক‚ হৃদযন্ত্র‚ যকৃৎ প্রাকৃতিক কারণে এতটাই অবিকৃত‚ যে চমকে গেছেন পরীক্ষকরাও । জানা গিয়েছে‚ মৃত্যুর ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে তিনি পরিজ খেয়েছিলেন । সব্জি এবং অন্য উপকরণ দিয়ে বানানো । এবং গবেষকরা মনে করছেন‚ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল । কারণ দেহে আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও গলায় ফাঁসের দড়ি আছে ।

সাইল্কেবর্গ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে বগ বডি-র দেহ । এছাড়াও ডেনমার্ক এবং ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের অন্য অংশে এরকম বগ বডি আরও আবিষ্কৃত হয়েছে ।