মেইন ম্যেনু

অবৈধ বালি উত্তোলন : উখিয়ার রেজু খালের ভাঙ্গনে হুমকির মুখে দুটি গ্রাম

কক্সবাজারের উখিয়ার খরস্রোতা জোয়ার ভাটার রেজু নদী এখন উত্তাল। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রেজু খালের দুই পাড়ে বসবাসরত পরিবারদের আতংকে দিনযাপন করতে হয়। ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড রেজু মোহনার কিছু অংশে সি সি ব্লক স্থাপন করলেও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় এসব মানুষের দিন কাটছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। ইতিমধ্যে ফসলী জমি ও বসত ভিটা হারিয়ে সর্বশান্ত শতাধিক পরিবার বনভূমির পরিত্যক্ত জায়গায় আশ্রয় নিলেও নদী পাড়ের দুটি গ্রাম যে কোন সময়ে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। গ্রামবাসীর দাবি, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্র নির্বিচারে বালি উত্তোলনের ফলে রেজু খালের ভাঙ্গন তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওয়ালিদং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সৃষ্ট এ রেজু খালটি নাইক্ষ্যংছড়ি, রাজাপালং হয়ে রতœাপালং এর উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জালিয়াপালং এর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ খালটির শাখা প্রশাখা বিদ্যমান থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাগরঘেষা উপকুলীয় জনপদ জালিয়াপালং ইউনিয়নের বৃহত্তর জনগণ। বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এ খালে নিয়মিত জোয়ার ভাটা হয়ে থাকে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের পানি ও জোয়ার ভাটার তীব্রতায় রেজু খালের বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে রেজু খালের মোহনায় জালিয়াপালং এর কিছু অংশ ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নের কিছু অংশ জুড়ে রেজু খালের উভয় অংশে সি সি ব্লক স্থাপন করলেও বৃহত্তর এলাকাজুড়ে ভাঙ্গন রোধে কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকায় নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে শত শত একর ফসলী জমি ও ঘরবাড়ি, বসত ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্থ বড়–য়া পাড়া ও চরপাড়া এলাকার আরো কিছু অংশ ভাঙ্গনরোধে সি সি ব্লক স্থাপনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে কবে নাগাদ এ কাজ শুরু হয় তা আমার জানা নেই।

সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মী নামধারী প্রভাবশালী চক্র চরপাড়া ও বড়–য়াপাড়া এলাকা থেকে বালি উত্তোলনের ফলে খালের ভাঙ্গন আরো তীব্রতর হয়ে উঠেছে। চরপাড়া গ্রামের আলী হোছন, নজির আহমদ ও আয়েশা খাতুন নামের একাধিক লোকজন জানান, চরপাড়া থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চরপাড়া এলাকায় বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ করে দেন।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা স্বত্ত্বেও চিহ্নিত ব্যক্তিরা নির্বিচারে বালি উত্তোলন করে তা বাজারজাত করছে। বড়–য়াপাড়া গ্রামের রনধীর বড়–য়া ও সমিরণ বড়–য়া সহ একাধিক গ্রামবাসীর অভিযোগ, রেজু খালের ভাঙ্গন থেকে বড়–য়া পাড়া রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও স্থানীয় বালুখেকোরা তা মানছে না।

ফলে প্রবল বর্ষায় বড়–য়া পাড়া ও চরপাড়া সহ দুটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিল্লোল বিশ্বাস জানান, চরপাড়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ ও ভূমি অফিসকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ইতিপূর্বে অভিযুক্ত বালি উত্তোলনকারীকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।