মেইন ম্যেনু

অভিজিৎ হত্যা : শনাক্ত ৭ জনই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও মুক্তমনা ব্লগের লেখক অভিজিৎ রায়ের হত্যার সঙ্গে জড়িত সাতজনকে শনাক্ত করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া।

রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের নিজ কার্যালয়ে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, অভিজিৎ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সাতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নাম ও কয়েকজনের ছবি তাদের কাছে রয়েছে। তবে ঠিকানা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। যে নামগুলো পাওয়া গেছে, তা প্রকৃত নাম নাও হতে পারে, সেজন্য যাচাই-বাছাই করার পর প্রকাশ করা হবে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘উপযুক্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সাতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরা সবাই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষিত। এদের মধ্যে একজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী। তবে তিনি লেখাপড়া শেষ করেছেন। সাতজনের মধ্যে ছয়জনের বয়স ৩০ বছরের মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় এদের সঙ্গে অভিজিতের পরিচয় হয়েছে। দেশে আসার পর তারা অভিজিৎকে নজরে রেখেছিল। সুযোগ বুঝে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘এরা সবাই জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। সংগঠনের হয়েই তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এদের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কি না, সাতজনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।’

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফারাবী ও বুয়েটের এক শিক্ষকের জড়িত থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ফারাবী সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দিয়েছিলেন। তবে ফারাবী এবং বুয়েটের ওই শিক্ষক হত্যাকাণ্ডে জড়িত আছেন- এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। শনাক্ত করা সাতজনকে গ্রেফতার করতে পারলে আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানা যাবে।

শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের কাছে বটতলায় অভিজিৎ ও তার স্ত্রীর ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে তারা হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন তারা। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অভিজিৎ মারা যান। হত্যাকাণ্ডের পরদিন অভিজিৎ রায়ের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অজয় রায় বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।