মেইন ম্যেনু

অভিনেত্রী দিতির মৃত্যুতে সোনারগাঁওয়ে শোকের ছায়া

মস্তিস্কে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতির মৃত্যুর সংবাদে গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

দিতির মৃত্যুর সংবাদে উপজেলার দপ্তপাড়ায় দিতির পৈত্রিক বাড়িতে লোকজন জড়ো হতে থাকে। বিভিন্ন এলাকা হতে নারী-পুরুষসহ আত্মীয় স্বজনরা বাড়িতে এসে ভিড় জমাতে থাকে। দিতির মৃত্যুতে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে।

এদিকে দিতির বড় ভাই মনির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘দিতি চলে গিয়ে সবাইকে কাঁদিয়ে গেলেন। তার স্কুল জীবনের সকল বন্ধু-বান্ধবরা ফোন করে কান্নাকাটি করে শুধু জানতে চাইছেন দিতি কখন মারা গেছে এবং তার লাশ সোনারগাঁওয়ে নিয়ে আসবে কিনা। যাকে যেভাবে পারছি বুঝিয়ে বলা হচ্ছে।’

তিনি জানান, সোমবার দিতির লাশ সোনারগাঁওয়ের দপ্তপাড়া পৈত্রিক নিবাসে নিয়ে আসা হবে। পরে বাদ জোহর স্থানীয় মসজিদের মাঠে নামাজের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এদিকে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে পা রাখেন দিতি। নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ের পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামের মেয়ে দিতি ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দিতি ছাড়াও তার বড় ভাই মনির হোসেন ও পারভেজ দুজনেই গান গাইতেন। ছোট বোন নাসরিন এক সময় মডেলিং করতেন। আরেক ভাই আনোয়ার ছবি আঁকার সঙ্গে জড়িত। সোনারগাঁওয়ের দিতির পরিবার সাংস্কৃতিক পরিবার হিসেবে পরিচিত। সাংস্কৃতিক বলয়ে বেড়ে ওঠা দিতি ছিলেন সোনারগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক প্রিয় মুখ।

১৯৭৪ সালে দিতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ সোনারগাঁও জিআর ইনস্টিটিউশনে। এখানে পড়াশুনার পাশাপাশি দিতি নিয়মিত গান গাইতেন। ১৯৭৯ সালে সোনারগাঁও জি আর ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি পাশের পর দিতি পড়াশুনার সুবাদে চলে যান ঢাকায়। সেখানে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ে জড়িয়ে পড়েন। এক সময় নায়িকা হিসেবে শক্ত অবস্থান দখল করেন বাংলা চলচ্চিত্রে। একের পর এক ব্যবসা সফল ছবির মাধ্যমে দিতি জয় করে নেন দশর্কের হৃদয়। বাংলা চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়লে তিনি স্বেচ্ছায় বাংলা চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে আসেন। সর্বশেষ তিনি টিভি নাটকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মস্তিস্কে টিউমার ধরা পড়ে। এরপর ২৫ জুলাই তাকে ভারতের চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ২৯ জুলাই ভারতের চেন্নাইয়ে মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজিতে (এমআইওটি) দিতির মস্তিস্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন দিতি। চেন্নাই থেকে ফিরে আসার পর বাসায় ছিলেন তিনি। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় ৩০ অক্টোবর তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর মস্তিস্কে পানি জমায় আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত দিতিকে দ্বিতীয়বারের মতো চেন্নাইয়ে নেয়া হয়। ৩ নভেম্বর আবারো তার মস্তিস্কে অস্ত্রোপচার হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতি রোববার বিকেল ৪টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ভারতের চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি (এমআইওটি) হাসপাতলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভারতে তিন মাস চিকিৎসা নেয়ার পর দিতিকে দেশে ফিরিয়ে এনে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।