মেইন ম্যেনু

অভ্যুত্থানের পথে সৌদি আরব

সৌদির রাজপরিবারে অভ্যুত্থান ঘটতে যাচ্ছে। সৌদি যুবরাজ মাহাম্মদ বিন প্রিন্সের এক উপদেষ্টার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’সোমবার এ খবর জানায়।

ওই উপদেষ্টা টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে অভ্যুত্থানের পক্ষে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেন, যেগুলো পশ্চিমা দেশগুলোকে উদ্দেশ করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর বিষয়বস্তু ছিল সৌদি সমাজে মানবাধিকার ও নারীর অবস্থান। পত্রিকাটি সৌদির এই পদক্ষেপকে ‘অভূতপূর্ব’বলে উল্লেখ করেছে।

তবে অভ্যুত্থান ঠেকাতে সৌদি রাজশাসকরা কিছু সংস্কার বিশেষ করে নারী ও মানবাধিকার বিষয়ে কিছু আধুনিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের একজন জ্যেষ্ঠ যুবরাজ, যিনি প্রয়াত বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের নাতি, জানিয়েছিলেনন, বাদশাহ সালমানের অপসারণের দাবি উঠেছে খোদ রাজপরিবারে। শিগগিরই বাদশাহর চার অথবা পাঁচ ভাই তার পদত্যাগ নিয়ে বৈঠকে বসবেন। দেশটির আদিবাসী নেতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ সালমানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তীব্র চাপ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবের শাসনক্ষমতায় নতুন প্রজন্মকে দেখতে চাইছেন সবাই।

চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি বাদশা আবদুল্লাহ মারা যাওয়ার পর সৌদি সিংহাসনে বসেন তার সৎভাই ৭৯ বছর বয়সী সালমান। সালমানের উত্তরাধিকারী হিসেবে যুবরাজ পদে রয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী বিন নায়েফ এবং তার ডেপুটি হিসেবে ৩১ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমান।

সালমানের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার থেকেই নানাভাবে বিতর্কিত হচ্ছে রাজপরিবার। সৌদির উত্তরাধিকার ধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনেন সালমান। ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব দেন। অন্যদিকে আবদুল্লাহর ছেলে মুকরিনকে অপসারণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী সালমানের পরবর্তী উত্তরাধিকারী ছিলেন মুকরিন।

এর পরেই সৌদি রাজপরিবারে বিদ্রোহের সুর শোনা যেতে থাকে। এ ছাড়া ইয়েমেন যুদ্ধ, অস্থিতিশীল তেলের বাজার, হজ পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার জন্য দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ। রাজপরিবার থেকে সেই বিদ্রোহধ্বনি এখন অভ্যুত্থান হিসেবে দানা বাঁধছে। গুঞ্জন উঠেছে, সালমানের বাকি আট ভাই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

এদিকে রাজপরিবারের ফাঁস হওয়া বিভিন্ন তথ্য থেকে বিদ্রোহের গুঞ্জন সত্যি বলে বিলে জানা যাচ্ছে। সৌদি শাসকরা সেসব পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ারও চেষ্টা করছেন। আর এ জন্য দেশকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করছেন তারা।

সৌদি রাজ প্রশাসনের ফাঁস হওয়া নথির কিছু অংশ টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হযেছে। তাতে সৌদি রাজপরিবারের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তনের কথা যেমন আছে, তেমনি আছে অভ্যুত্থানের আশঙ্কাও। গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের বিষয়ে সৌদি সরকারের ভাষ্য, এসব পরিবর্তনের ফলে কারো কারো বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে, তবে এ জন্য কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না।

অন্য একটি ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা যায়, সৌদির জনগণ দেশের আধুনিকায়ন চায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সৌদি রাজপরিবারের সংকট নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু সৌদির জনগণ আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য কতটা উদগ্রীব সেই সম্পর্কে কেউ কিছু বলছে না। সৌদির জনগণ এই রাজ্যকে নতুন ভিত্তিতে নতুন করে গঠন করতে চায়। অভ্যুত্থান ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়।

সৌদি সমাজে নারীদের ভূমিকা এখন সারা বিশ্বেই নিন্দিত। এই জন্য দেশটির সরকারও বহুলাংশে দায়ী। সৌদি সরকারও এই বিষয়ে একমত, তারা মনে করেন, “সৌদি সমাজে নারীদের ভূমিকা এখন বৈশ্বিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য সারা বিশ্বেই আমাদের নিন্দা করা হচ্ছে। কিন্তু এটি সত্যি যে, নারীদের উন্নয়নে আমরা আসলেই কিছু করতে পারছি না।”

ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা গেছে, নারীদের প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষের আচরণ দিনের পর দিন এভাবেই চলে আসছে এবং এটি তাদের জনপ্রিয় প্রথা। কিন্তু বলা হচ্ছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। “আমরা অনেক এগিয়েছি। এখন আর গত কয়েক বছরে সমাজ গঠনে নারীদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। তাদের প্রাপ্য সম্মান অবশ্যই তাদের দিতে হবে।”

সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “এখন থেকে আন্তর্জাতিক কমিটি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্য সৌদি রাজপরিবারের দরজা খোলা থাকবে।” তথ্যে বলা হয়েছে, “আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এ জন্য প্রয়োজনে কাউকে শাস্তি দিতে আমরা পিছপা হবো না। ”