মেইন ম্যেনু

অমিতাভের টুইটেই চাকরি গেল হার্শা ভোগলের?

আইপিএলের প্রথম আসর থেকেই ভাষ্যকার হিসেবে অন্যতম পরিচিত মুখ হার্শা ভোগলে। সেই হার্শা ভোগলেকে টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে দামি এই লিগেই এবার দেখা যাবে না।

কোনো রকম ব্যাখ্যা ছাড়াই ধারাভাষ্য থেকে হার্শাকে সরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সপ্তাহ খানেক আগেই হার্শাকে ধারাভাষ্যকারদের প্যানেল থেকে বাদ দেওয়ার চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে হার্শা ভোগলে বলেন, ‘এখন সবাই তো সবকিছু জানেন। আমি আর নতুন করে নাই বা বললাম। শুধু এটুকু বলতে পারি যে, আইপিএলে থাকতে চেয়েছিলাম। সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না বলে খারাপ লাগছে।’

হার্শাকে ধারাভাষ্য থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে বিসিসিআইয়ের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘এটা সবাই আলোচনা করেই হয়েছে। আমাদের কাছে খবর আছে, হার্শা ক্রমেই একঘেঁয়ে হয়ে উঠছিল। ফলে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিল। বরং নতুন ধারাভাষ্যকাররা অনেক ভালো করছেন। তাদের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।’

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও ভারতের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটিই সম্ভবত হার্শার চাকরি হারানোর কারণ!

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের পরপরই বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের একটি টুইট দিয়েই ঘটনার সূত্রপাত। বলিউডের এই কিংবদন্তি অভিনেতা সেদিন কারো নাম উল্লেখ না করে একটি টুইট করেছিলেন, ‘একজন ভারতীয় ধারাভাষ্যকার ভারতীয় ক্রিকেটারদের চেয়ে বিদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে বড্ড বেশি কথা বলেন।’

খোদ ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও তাতে সায় দিয়েছিলেন। এর পর থেকেই নাকি বোর্ডে ‘টার্গেট’ হয়ে যান হার্শা। সিনিয়র বচ্চন হার্শার নাম উল্লেখ না করলেও নাকি এটা ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে যায় যে তার কথা বলা হয়েছে। হার্শা নিজেও তা বুঝে নিয়ে ‘বিগ বি’র সঙ্গে দেখা করতে চান বলেও শোনা গিয়েছিল। এমনকি কেন তিনি এ রকম বলেছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিন্তু তাতেও চিড়ে ভেজেনি।

শোনা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের সময় নাকি নাগপুরে এক বোর্ড ঘনিষ্ঠ কর্তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন হার্শা। তাতেও নাকি তার যাওয়ার রাস্তা আরো পরিষ্কার হয়ে যায়।

চাকরি হারিয়ে এখন কী করবেন হার্শা, তা অবশ্য জানাননি। তবে তিনি যে ক্রিকেটের সঙ্গে থাকছেন, সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তনের দাবিও উঠেছে। এর প্রভাব বোর্ডে পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার। অবশ্য বোর্ডের শীর্ষ কর্তা বলেছেন, ‘তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। ওকে ফেরানোর জন্য তো আর বাদ দেওয়া হয়নি।’

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার।