মেইন ম্যেনু

অর্থাভাবে ঢাবির পর বেগম রোকেয়াও হারানোর পথে হাকিম

মেধার যুদ্ধে জিতে টাকার অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হারিয়েছে মেধাবী আব্দুল হাকিম। এবার একই কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির সুযোগটিও প্রায় হাতছাড়া হওয়ার পথে তার। ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পারা ওই মেধাবী শিক্ষার্থীর এখন দিন কাটছে চরম হতাশায়।

আব্দুল হাকিম বড় হওয়ার স্বপ্নে এইচএসসি পাশের পর নেমেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে। সে যুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃত্য ও নাট্যকলা বিভাগে ভর্তির সুযোগও হয়েছিল তার (ওই বিভাগের মেধাতালিকায় স্থান ২৫২৬)। কিন্তু ওই সময় অর্থাভাবে পারেননি স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। এবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগে ৩১ নম্বর মেধাতালিকায় স্থান পেয়েও অর্থাভাবে হাতছাড়া হতে চলেছে সে সুযোগটিও।

গতকাল রবিবার বিকেলে নীলফামারী জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে খোকসাবাড়ি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় আব্দুল হাকিমের সঙ্গে। তিনি জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শেষ তারিখ ১৯ জানুয়ারি। ভর্তির জন্য প্রয়োজন ৯ হাজার ২৬ টাকা। অভাব-অনটনের পরিবারে ওই টাকা যোগাড় করা সম্ভব হয়নি গতকাল রবিবার বিকেল পর্যন্ত। টাকার অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগটি হাতছাড়া হয়েছিল তার। এবার একইভাবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগটিও তার হাতছাড়া হতে চলেছে।

এ সময় হাকিমের মা সখিনা বেগমকে (৫৫) দেখা গেছে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত থাকতে। কী করে এই স্বল্প সময়ে জুটবে ভর্তির টাকা তা নিয়েই চিন্তিত তিনি। কিংবা ভর্তি হলেও কীভাবে চলবে তার লেখাপড়ার খরচ। তিনি বলেন, “ছেলের ভর্তির টাকার চিন্তাত মোর ঘুম হছে না। অতোলা টাকা মুই এলা কোনঠে পাইম।” তিনি জানান, মাত্র পাঁচ বছর বয়সে হাকিম হারান তার প্রিয় বাবা মহরম আলীকে। অভাব-অনটনের সংসারে অন্যের বাড়িতে কাজ করে তার মা সখিনা বেগম খাবার জুটিয়েছেন তিন ছেলে আর দুই মেয়ের। অনেক আশা নিয়ে সবার ছোট ছেলে আব্দুল হাকিমের লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন তিনি।

সখিনা বেগম জানান, পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি আর নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েছেন হাকিম। ২০১৩ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। এরপর ঢাকার এডুকেশন ফর অল নামে একটি সংগঠনের বৃত্তির টাকায় চলে তার উচ্চমাধ্যমিকের লেখাপড়ার খরচ। ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় একই বোর্ডের অধীনে নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ অর্জন করে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধে। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হলেও টাকার অভাবে বারবার হাতছাড়া হচ্ছে সে সুযোগ। আব্দুল হাকিমের মোবাইল নম্বর ০১৭৮০৮৯৯২৩০।