মেইন ম্যেনু

অর্থাভাবে দেশে ফিরতে পারছেন না বন্দি বাংলাদেশিরা

অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগে বিশ্বের নানা দেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে দেশে ফেরা তো দূরের কথা আইনি লড়াইও চালাতে পারছেন না এদের অনেকে। এসব বন্দিকে মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাংলাদেশ দূতাবাসও তৎপর নয় বলে আভিযোগ উঠেছে।

অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতায় মৃত্যু হচ্ছে অহরহ, কেউ ধরা পড়ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে, কেউ বা প্রতারকদের হাতে জিম্মি হচ্ছেন। সহায় সম্বল বেঁচে টাকা দেয়ার পর মুক্তি মিলছে কারো।

অবৈধ পথে গিয়ে বন্দি হয়েছেন এমন বাংলাদেশির সংখ্যা সরকারি হিসাবে ১৩ হাজার হলেও বেসরকারি হিসেবে ১৫ হাজারেরও বেশি হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন ভারতে। এরপরেই আছে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং ওমানে। বিদেশি কারাগারে এভাবে বিপুল সংখ্যক নাগরিকের বন্দি থাকা কোনো দেশের জন্য সম্মানজনক নয়, বলছেন কূটনীতিকরা। মানবাধিকার কমিশন মনে করে, জীবিকার তাগিদে অবৈধ অভিবাসী হলে সে দায় শুধু ব্যক্তির নয় রাষ্ট্রেরও।

একটি সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার ১২টি বন্দি শিবিরেই ৩ হাজার ৭৭৩ জন আর বিভিন্ন কারাগারে সাজা ভোগ করছেন এক হাজার ২২৭ জন বাংলাদেশি।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-সহকারী পরিচালক জোসামি মাস্তান বলেন, বিভিন্ন কারাগার ও ক্যাম্পে যারা আটক আছেন, তাদের বেশির ভাগই অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ কিংবা অবৈধভাবে থাকার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন। আটকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন, ১৯৫৯-এর ধারা ৬(১) সি/১৫ (১) সি এবং পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৬-এর ১২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে সাজা খেটে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পগুলোতে প্রায়ই বাংলাদেশিদের ওপর নির্যাতন করা হয়। এমনকি কেউ কেউ ক্যাম্পেও মারা যান। অনেক সময় ঠিকমতো খাবার দেয়া হয় না।

দীর্ঘদিন জেলে বা ক্যাম্পে থাকলেও হাই কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের দেশে ফেরত নেয়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানান তারা।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার উইংয়ের ফার্ষ্ট সেক্রেটারি শাহিদা সুলতানা এ প্রতিবেদককে জানান, বন্দি শিবিরে যারা আটক রয়েছেন তাদেরকে দ্রুত দেশে পাঠানোর সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দূতাবাসের শ্রম শাখার সচিবরা প্রত্যেকটি বন্দি শিবির পরিদর্শন করে বাংলাদেশিদের শনাক্ত করে তাদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা চলছে।