মেইন ম্যেনু

অলিম্পিকে লড়বেন জাবি শিক্ষার্থী

সাঁতার আমার খেলা, এটাই আমার নেশা/ জলরাশিতে আমার ভাব, নৌবাহিনীতে করি জব/লেখাপড়া করি ইতিহাসে, গড়তে চাই নাম দেশ-বিদেশে/ বাড়ি আমার পাবনা, পারবো না কথাটা ভাবি না।

এভাবেই ছন্দ মিলিয়ে নিজের সাফল্যগাথা কবিতা লেখে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করা মাহফিজুর রহমান সাগর।

আগামীকাল (৫ আগস্ট) থেকে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে শুরু হওয়া গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় ‘লাল-সবুজ’ পতাকা হাতে দেশের হয়ে লড়বেন তিনি। গতবার লন্ডন অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন এ সাঁতারু। এখন তিনি আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ব্রাজিলে অবস্থান করছেন। শেষবারের মতো ঝালিয়ে নিচ্ছেন নিজেকে।

পাবনার ছেলে সাগর, সাঁতারু হয়ে ওঠার ইচ্ছাটা ছোটবেলা থেকেই। বছরখানেক পড়েছেন পাবনা জিলা স্কুলে। তারপরে ঢাকায় আসা। ভর্তি হন বাংলাদেশ ক্রীড়া ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে। সেখান থেকেই সাঁতারের যাত্রা শুরু। ধীরে ধীরে আসতে থাকে সাফল্য।

২০০৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতেই যোগ দেন জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায়। জিতেন দুটি সোনাসহ রুপা আর ব্রোঞ্জ মিলে ছয়টি পদক! বছর দুই পরে ২০০৫ সালে ২১তম জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় দেশের ‘সর্বকনিষ্ঠ সাঁতারু’ হিসেবে জিতেন স্বর্ণপদক।

তারপর ২০১০ এসএ গেমসে ২ রৌপ্য ও ১ ব্রোঞ্জ পদক জিতেন। ২০১১ সালে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় আটটি ইভেন্টের আটটিতেই সোনা জিতে সেরা সাঁতারুর মুকুট লাভ করেন। পরে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় ১২ ইভেন্টের সবকটিতেই স্বর্ণপদক লাভ করেন। এ বয়সেই মোট ৪৮টি সোনা জিতেছেন এ সাঁতারু।

স্মরণীয় একটি ইভেন্টের কথা বলছিলেন সাগর- সেদিন ২ এপ্রিল। থাইল্যান্ড ওপেন সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপ স্টেডিয়াম। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি। আয়োজনে ছিল আন্তর্জাতিক সাঁতার সংস্থা (ফিনা)। বিশ্বসেরা সব সাঁতারুদের সাথে লড়বেন। মনে হালকা ভয় আবার ভালো লাগা। ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের সাঁতার। প্রস্তুতি নিয়ে দাঁড়ালেন পুলে। মনে মনে ভাবলেন দেশের জন্য কিছু করতে হবে। প্রতিযোগিতা শুরু হলে মাত্র ১ মিনিট ৫৪.০৫ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে পৌঁছে গেলেন জয়ের প্রান্তে। যেটি কিনা সেই ইভেন্টের জাতীয় রেকর্ডের চেয়ে ভালো টাইমিং। সাথে সাথে পুরো স্টেডিয়াম বাংলাদেশের বন্দনায় মুখর। বাংলাদেশের পতাকা উড়ল বিশ্বমঞ্চে। সৃষ্টি হলো নতুন ইতিহাস।

সাগরের ভাষায়, ‘আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে আমি প্রথম হয়েছি। ভালো করব কিন্তু একদম প্রথম হবো এমনটা স্বপ্নেও ভাবিনি।’

বিশ্বসেরা এই সাঁতারুর বর্তমানে পড়াশুনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে, স্নাতক সম্মান শেষ বর্ষে। থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলে।

মুক্তিযোদ্ধা বাবা আজিজুর রহমানেরও স্বপ্ন ছিল ছেলে দেশের জন্য ভালো কিছু করবে। নিজেও ছিলেন কাবাডি খেলোয়াড়। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েও অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি। সেই অপ্রাপ্তিগুলো থেকে সন্তানকে বড় খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেছেন বাবা।

সর্বশেষ অলিম্পিকে অংশগ্রহণের ব্যাপারে সাগর বলেন, সবসময় ভালোবাসা ভালো লাগার জায়গা থেকে খেলি, ভালোবাসি বলেই দেশের হয়ে অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। দেশের জন্য সর্বোচ্চ দিতে চাই। স্বর্ণজয় করতে চাই।

দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ করতে যাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, অলিম্পিকে খেলা অনেক বড় স্বপ্ন। সেখানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাটাও অনেক কিছু। কখনো ভাবিনি যে বাংলাদেশের হয়ে টানা দুইবার অলিম্পিকের মতো আসরে অংশগগ্রহণ করতে পারব। এটা আমার জন্য খুবই গৌরবের ও আনন্দের।