মেইন ম্যেনু

অলিম্পিকে ‘সমকামিতার বিপ্লব’!

ক্রীড়াক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সমকামী নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে থাকেন। আন্তর্জাতিকভাবে এদের কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে বাধা নেই। বরং তাদের অধিক সুরক্ষার জন্য আছে বিশেষ নজর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর অলিম্পিক। অনেক আগ থেকেই এই ক্রীড়া আসরে সমকামী নারী-পুরুষরা অংশগ্রহণ করে আসছে। এক সময় হিসাব রাখা হতো না। অনেকেই নিজের এই বিষয়টি গোপন রাখতো।

কিন্তু বর্তমানে খুব কম-ই আছেন, যারা নিজেদের সমকামের কথা গোপন রাখে। এশিয়া মহাদেশে সমকামিতাকে অপরাধের দৃষ্টিতে দেখা হলেও ইউরোপ-আমেরিকার অধিকাংশ দেশে এতে কোনো বাধা নেই। বরং সমকামীদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য আছে বিশেষ নজর। অলিম্পিকের ৩১তম আসর বসেছে ব্রাজিলে। ২০১৩ সালে দেশটিতে সমকামী বিয়ের বৈধতা দেয়া হয়।

আর এর ফলাফল দেখা গেলো হাতেনাতে। অলিম্পিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্টেডিয়ামে ভরা দর্শকদের সামনে এক নারী খেলোয়াড়কে আরেক নারী বিয়ের প্রস্তাব দিল। ব্রাজিলের নারী রাগবি দলের সদস্য ইসাদোরা সিরুলো। তাকে স্টেডিয়ামে শত শত দর্শক ও সাংবদিকদের সামনে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন তার দীর্ঘদিনের নারী পার্টনার মারজোরি এনিয়া। তিনি এ প্রস্তাব গ্রহণ করে স্টেডিয়ামের মধ্যে আলিঙ্গনও করলেন।

এই ঘটনার পর অলিম্পিকে সমকামের বিষয়টি বড় করে সামনে এসেছে। অলিম্পিকের প্রতিটি আসরেই সমকামী খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করে। কিন্তু আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে এবার। ২০০৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক থেকে সমকামী খেলোয়াড়ের তালিকা আছে উইকিপিডিয়ায়। তারা জানাচ্ছে, সেবার অংশগ্রহণকারী ১০,৭০৮ খেলোয়াড়ের মধ্যে ১২ জন ছিলেন সমকামী। এরা ছিলেন আত্মস্বীকৃত।

এর বাইরে অনেকে সমকামী থাকতে পারেন। কিন্তু নিজেরা স্বীকার না করায় তাদের তালিকায় রাখা হয়নি। ২০১০ সালে শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নেন ৬ জন সমকামী। আর ২০১২ সালে লন্ডনের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করে ২৩জন সমকামী।

তবে ২০১৪ সালে রাশিয়ার শীতকালীন অলিম্পিকে তাদের সংখ্যা ছিল ৭ জন। কিন্তু এবার রিও’র গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এবার স্বাঘোষিত সমকামীই আছেন ৪৪ জন। এই হিসেবে এবারের অলিম্পিককে ‘সমকামিতা বিপ্লব’ অলিম্পিক বলছেন অনেকে।