মেইন ম্যেনু

অলিম্পিক্সে প্রথম সোনা জয় বাঙালির, পড়ুন সেই পাহাড় ডিঙানোর গল্প…

দীপা কর্মকার পারেননি। তাঁর দিকেই তাকিয়ে ছিল গোটা বাঙালি সমাজ। অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করেন দীপা। এই বাঙালি কিন্তু পেরেছেন।

দীপা কর্মকার পারেননি। তাঁর দিকেই তাকিয়ে ছিল গোটা বাঙালি সমাজ। অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করেন দীপা। ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশ। ১৯৮৪ থেকে তারা অলিম্পিক্সের আসরে। এখনও পর্যন্ত একটি পদকও ঘরে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। অথচ এক বাঙালি অন্য দেশের হয়ে অলিম্পিক্সের মঞ্চ থেকে সোনা জিতে নিলেন। একটা জাতিকে দিয়ে গেলেন অন্য মন্ত্র। তিনিই যে এখন বাঙালির ধ্রুবতারা।

রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সে সোনা জেতার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন বাংলাদেশি কন্যা মার্গারিটা মামুন রিটা। যদিও বাংলাদেশের পদক তালিকা কিন্তু শূন্যই দেখাচ্ছে। কারণ বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত মার্গারিটা মামুন রাশিয়ার হয়ে নেমেছিলেন রিওতে। অল অ্যারাউন্ড ইভেন্টে ৭৬.৪৮৩ পয়েন্ট পেয়ে সোনা জেতার নজির গড়েন তিনি। ঘটনা হল, মার্গারিটার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন আশির দশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই বিয়ে করে থেকে যান। তাঁর স্ত্রী আনা প্রাক্তন জিমন্যাস্ট। মার্গারিটার রক্তেও তাই জিমন্যাস্টিক্স। আগে রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সে বিশ্বরেকর্ড করার নজির ছিল মার্গারিটার।

এবার অলিম্পিক্সের মঞ্চ থেকে জিতে নিলেন সোনা। হিটে প্রথম হয়েই ফাইনালে উঠেছিলেন মার্গারিটা। সেখানে চার ইভেন্ট— হুপ, বল, ক্লাব ও রিবনে সাকুল্যে স্কোর করেন ৭৪.৩৮৩। ফাইনালে হিটের স্কোরকেও ছাপিয়ে যান তিনি। সোনা জয়ের পথে মার্গারিটা পিছনে ফেলে দেন ফেভারিট ও তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইয়ানা কুদ্রিয়াভৎসেভাকে। তিনিও রাশিয়ারই। অলিম্পিক্স পদক এখনও দিবাস্বপ্ন বাংলাদেশের। বাঙালিরও। মার্গারিটার সাফল্যে গর্বিত বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে বাঙালিও।

তাঁকে নিয়ে যে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ, সেটা জানতে পেরেছেন মার্গারিটা। আর তাই বলছেন, ‘‘বাংলাদেশের অনেকেই আমাকে সমর্থন করেছেন, তা জেনে আমি খুব খুশি। আমি বাংলায় ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে পারি। ছোটোবেলায় বাবা আমাকে বাংলা শেখাতেন। এখন অবশ্য সেসব ভুলে গিয়েছি।’’ জুনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশকে একবার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন মার্গারিটা মামুন। তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। জুনিয়র হিসেবে একটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য তিনি রাশিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।