মেইন ম্যেনু

অলি-গলিতে কোচিং শিক্ষার নামে চলছে বাণিজ্য

মাসুদ আলম : মোড়ে মোড়ে এবং অলি-গলিতে গড়ে উঠেছে মেডিকেল, বুয়েট এবং ভার্সিটিতে ভর্তি করে দেয়ার নামে অবৈধ কোচিং বানিজ্য। কোচিং সেন্টার গুলোতে সরকারের কোন নীতিমালা না থাকা এবং সুষ্ঠু তদারকির অভাবে দিন দিন এ অবৈধ কোচিং সেন্টারে সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে কুমিল্লা সদর ও দক্ষিণ উপজেলাসহ মহানগরীতে প্রায় ৫ শতাধিক সরকারি নীতিমালা বিহীন অবৈধ কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে।

এসব কোচিং সেন্টারে শিক্ষকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ও মালিকদের দৌরাত্ম্যে অভিভাবক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা বির্বত ও বিশমিত। ব্যাঙের ছাতার মত অবৈধ কোচিং সেন্টারের ব্যানার, সাইনবোর্ড ও নিয়ন সাইনে ছেয়ে গেছে কুমিল্লা শহর। শহর জুঁড়ে যত্রতত্র এসব পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন-সাইনবোর্ড ও নিয়ন সাইন রাস্তার দুই পাশে, ওপরে ও বিদ্যুতের খুঁটিতে সাটানো হয়েছে। এসব কোচিং সেন্টারের ব্যানার-ফেস্টুন-সাইনবোর্ড সাটানোতে ঝড়-বৃষ্টিতে দূর্ঘটনার আশঙ্কা এমনকি লাগামহীন এসব বিজ্ঞাপনে শহরের সৌন্দর্যহানি ঘটচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশিষ্টজনেরা।

এদিকে সরেজমিন গুরে জানাযায়- কোচিংয়ের পরিচালকরা বিভিন্ন রকম মিথ্যা আশ্বাসে জড়িত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে কুমিল্লার নির্বরযোগ্য বিভিন্ন মহল থেকে। কোচিংয়ে ভর্তির সময় নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভর্তি করার পরপরই শিক্ষার কোন মান বজায় না রেখে প্রায় সবই উল্টোভাবে চলে বলে জানা গেছে। ফুলঝড়ি, উদ্দিপন নামক এক কোচিংয়ের প্রসপেকটাসে বলা হয়েছে “আগে BUET পরে Fee; No Chance No Fee; অর্থ্যাৎ তাদের প্রসপেকটাসে বুয়েটে ভর্তি না হতে পারলে কোন কোচিং ফি’ই নেয়া হবে না বলে শ্রুতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও নগর জুঁড়ে সরকারি নীতিমালা বিহীন কোচিং সেন্টাগুলো Saifur’s, Uniaid, Icon, Icon +(Plus), United, UCC, Paragon, ABC, (+) Plus Point, Sure Success, Gold, Orion, অ্যাডমিশন ফেয়ার, গোমতি, উদ্দীপন, কমিটমেন্ট, প্রত্যয়, দিগন্ত, ওয়াকল, কনফিডেন্স, আজাদ ক্যাডেট, শুরুকুল প্রাইমেট, শাহীন, রেটিনা ও ফোকাসসহ নগরীর অলি-গলি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ-পাশে গড়ে উঠা নামি-দামি প্রায় ৫ শতাধিক কোচিং সেন্টার রয়েছে। এসব কোচিং সেন্টারে বেশির ভাগ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জড়িত।

নগরীর কয়েকটি কোচিং সেন্টারে UCC, Saifur’s প্রাইমেট, উদ্দীপন ও ই’হকসহ আরো কয়েকটি কোচিং সেন্টারে ভর্তিরত ৭/৮ জন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতেই বেরিয়ে আসে এসব কোচিংয়ের গোপন তথ্য এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। শিক্ষার নামে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে একত্রে বসিয়ে শিক্ষাদান এমনকি ভালোভাবে অর্থবাণিজ্য খুব ভালোভাবেই হচ্ছে বলে এইসব ছাত্র/ছাত্রীর অভিযোগ। ভর্তি হওয়ার সময় পরিচালকরা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয় অভিজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু ভর্তিরপর তাদের প্রতিশ্রুতি উল্টো হয়ে যায়।

ইউসিসি (UCC) এবং Uniaid তে অধ্যয়নরত ভার্সিটিতে ভর্তিচ্ছ দুইজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, টাকা নেয়ার সময় কোন কম নেয়নি আর এখন ক্লাসে শিক্ষার মান একেবারেই নেই, যে পড়ার মান তাতে কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারবো কি-না সেটা নিয়ে শঙ্কায় আছি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পড়ানো ব্যাতিরেকে শিক্ষকের কাছে আলাদাভাবে পড়ানোর জন্য উৎসাহ এবং এক প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার। তিনি বলেন, ক্লাসে ভালোভাবে না পড়িয়ে শিক্ষকগণ আমাদেরকে তাদের কাছে আলাদাভাবে পড়ার জন্য ক্লাসে এসেই বার বার বলছে এতে করে ক্লাসে কোন শিক্ষাতো দিচ্ছেই না বরং আরো ভিন্নভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফন্দি করছে।

এব্যাপারে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নগর জুঁড়ে শত শত স্কুল কলেজ, হাসপাতাল ও কোচিং সেন্টার গুলো অবৈধ ভাবে যত্রতত্র পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন-সাইনবোর্ড ও নিয়ন সাইন প্রতি সাপ্তাহে আমরা এগুলো ভেঙ্গে পোড়াই। কিন্তু ২/১ না যেতেই আবার অবস্থান নেয় যত্রতত্র পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন-সাইনবোর্ড গুলো। সাটানো এই সব যত্রতত্র পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন-সাইনবোর্ডে কর্তৃপক্ষ সিটি কর্পোরেশনকে কোন ধরনের কর দেয় না। এমনকি নেই তাদের কোন ট্রেড লাইসেন্স।