মেইন ম্যেনু

অস্ট্রেলিয়ার সফর বাতিলে ইনুদের দুষলো বিএনপি

বিএনপি অভিযোগ করেছে, সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশে জঙ্গীবাদের যে জিগির তুলেছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে জঙ্গী ধরা, তথাকথিত উগ্রবাদী বই-পুস্তক উদ্ধারের যে কাহিনী প্রচারিত হয়েছে-তার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি আস্থাহীনতা ও আশঙ্কার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং সে কারণেই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশে খেলতে আসতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে।

দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে তাদের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন এমন অভিযোগ করেন দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু ‘নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সে দেশের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক অধিদপ্তর ডিএফএটি বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেছেন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায় তারা।’

ড. রিপন বলেন, ‘এ প্রসঙ্গে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা প্রশ্নে যা বলেছেন তার সঙ্গে আমরা একমত। বাংলাদেশের মানুষও মনে করে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের কোন তৎপরতা নেই। বাংলাদেশ ধর্মীয় সহনশীল একটি রাষ্ট্র, এখানে ধর্মীয় উগ্রবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিনাভোটের সরকার। তারা তাদের শাসন ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার জন্য, অনতিবিলম্বে জনগণের অবাধ ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবিকে অস্বীকার করার জন্য এবং ‘ধর্ধীয় উগ্রপন্থাকে ঠেকানোর জন্য এ সরকার ব্যস্ত’-এমন ধারণা দিয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি নেয়ার একটি অপচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। আমরা বরাবরই বলেছি- এ ধরণের প্রোপাগান্ডা এক পর্যায়ে দেশের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বারবার হয়েছেও তাই।’

রিপন বলেন, ‘ভারত,পাকিস্তান, ইংল্যান্ড,দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পর নতুন ইমেজে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল যখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছক কষছে এবং নিজেদের সর্বোত্তম পারফর্মেন্স প্রদর্শনে উজ্জীবিত এবং দিনক্ষণ, ভেনু সবকিছু যখন ঠিকঠাক তখন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিরাপত্তার প্রশ্নে অনিশ্চিত হওয়ায় আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করেছে এবং ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে আমরা খুব দুঃখ পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও উল্লেখ করতে চাই-বাংলাদেশ নিয়ে অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক অধিদপ্তরের দেয়া পর্যবেক্ষণ প্রকৃত তথ্য ভিত্তিক নয়-এটা আমাদের বিশ্বাস। আমরা আশা করব, বাংলাদেশ সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণ সৃষ্টি হয়েছে এবং এর সুদুর প্রসারী প্রভাব সম্পর্কে সরকার সচেতন থাকবে এবং এর বিপরীতে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টিতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন।’

রিপন বলেন, ‘অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের বাংলাদেশ বিষয়ক পর্যবেক্ষণ-যদিও আমরা বাস্তবতা বিবর্জিত বলে মনে করি, তথাপিও দেশের মানুষের মধ্যেও এর ফলে এক ধরণের শঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে। নিরাপত্তা নিয়ে শুধু বিদেশীদের নয়, দেশের মানুষকেও আস্বস্থ করার দায়িত্ব সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘অষ্ট্রেলীয় সরকারের বাংলাদেশ বিষষক এই পর্যবেক্ষণের কারণে ধর্মীয় সহনশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ মোকালোর প্রশ্ন উঠে এসেছে। তা হল- আমাদের অবিলম্বে – এধরনের নেতিবাচক ধারণার বাইরে বাংলাদেশকে নিয়ে এসে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নতুন করে ব্র্যান্ডিং করা। এজন্য সরকার ও বিরোধী দলসম–হকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সুশাসন-আইনের শাসন-মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনকারী রাষ্ট্রে-কখনোই কোনো ধরণের উগ্রপন্থা মাথাচাড়া দিতে পারে না।’

এসময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবেন ইউসুফ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এনাম আহমেদ চৌধুরী, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।