মেইন ম্যেনু

অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণে যাচ্ছেন? অবশই জেনে নিন এই বিষয়গুলো

ভ্রমণের জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি চমৎকার জায়গা। এখানে এত রকমের অ্যাডভেঞ্চার করা সম্ভব যে এক জীবনে শুধু অস্ট্রেলিয়া বেড়িয়েই কাটানো যাবে, একঘেয়ে লাগার সুযোগ নেই একদমই। কিন্তু কোথায় কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন এগুলোর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণে জানার আছে আরও কিছু বিষয়। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইট বুক করার আগেই একটু জেনে নিন সেখানে কিছু বিষয় কিভাবে মানিয়ে নেবেন।

ফ্লাইট
আপনার ফ্লাইট আপনার বাজেট অনুযায়ী পছন্দ করতে পারেন। সীমিত বাজেটের এয়ারলাইন্স হচ্ছে টাইগার এয়ারওয়েজ এবং জেটস্টার। অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ান ওয়ে ফ্লাইট ততো খরচের নয় যতটা খরচ পড়বে রিটার্ণ টিকেট সহ নিলে। তাই আপনি শুধু যাওয়ার টিকেট করলে অনেকটা সাশ্রয় হবে। এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে আপনি অস্ট্রেলিয়ায় বাস পাসের জন্য এপ্লাই করতে পারেন। এমনকি একা একা ঘুরে বেড়াতে চাইলে আপনি সস্তায় একটা গাড়ি ভাড়া করতে পারেন বা ব্যবহারিত গাড়ি কিনে ফেলতে পারেন।

ভিসা
ভিসার প্ল্যান আপনাকে অনেক আগে থেকেই করতে হবে। ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা যাবে না। আপনি কয়েক রকমের ভিসার জন্য এপ্লাই করতে পারেন। যেমন, ট্যুরিস্ট ভিসা, ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা। ভিসার জন্য আপনার বেড়াতে যাওয়ার সময় হের ফের হতে পারে। তাই আগে থেকেই করে ফেলুন।

টাইম জোন
অস্ট্রেলিয়া একটি স্বল্প জনসংখ্যার বিশাল দেশ। কিন্তু তাদের টাইম জোন আছে ৩ টি। একটা দেশের জন্য এটা অনেক। এই ৩টি জোন হল, ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম স্টেটস (EST), সেন্ট্রাল স্ট্যান্ডার্ড টাইম (CST) উত্তর এবং দক্ষিণ এলাকার জন্য, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জন্য ওয়েস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম (WST)। এখন যেটা মনে রাখা প্রয়োজন তা হল, CST হল EST এর তুলনায় ৩০ মিনিট পেছনে, WST আবার EST এর চেয়ে ২ ঘন্টা পিছিয়ে আছে। তাই এই সময় মিলিয়ে আপনার প্ল্যান করুন।

বিস্ময়কর আবহাওয়া
আমেরিকা বা ইউরোপের মত অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্ম কিন্তু মোটেই আরামদায়ক নয়। বরং বেশ গরম থাকে সেখানে। কোথাও হয় প্রচন্ড বৃষ্টি আবার কোথাও থাকে একেবারেই শুষ্ক। তাই অস্ট্রেলিয়ান আবহাওয়ার সাথে তাল মেলানো কঠিন। ভাল হয় একটা ঋতু খেয়াল করে যেতে পারলে। তাই যেতে পারেন অক্টোবার-নভেম্বারে অথবা এপ্রিল-মে তে। আবার একই সাথে পুরো অস্ট্রেলিয়া কিন্তু সারা বছরই গরম থাকে না। উত্তর অস্ট্রেলিয়ার তাপমাত্রা শীতের সময় -৫ ডিগ্রী পর্যন্ত নেমে যায়। তাই এই সবকিছু মাথায় রেখেই আপনার প্ল্যান করুন।

খরচ
অস্ট্রেলিয়ায় কিন্তু জীবনযাত্রা খুবই ব্যয়বহুল। প্রতিদিন খাওয়া, থাকা এবং বেড়ানো বাবদ ব্যয় হয়ে যাবে ১০০ ডলারের উপরে। যাতায়াত আপনার পকেট খালি করে দেবে। তাই আপনার যদি রোড ট্রিপের প্ল্যান থাকে তাহলে একটা ব্যবহৃত গাড়ি কিনে ফেলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অনলাইনে সস্তায় পাবেন এমন গাড়ি। আবার অস্ট্রেলিয়ান ওয়েবসাইট থেকে ভাড়াও নিতে পারেন, সেখানে অনেক সস্তায় আপনার বাজেটের সাথে মিলিয়ে গাড়ি পাবেন।

থাকার জন্য বেছে নিতে পারেন হোস্টেলগুলো। সেগুলো সস্তা এবং মানসম্মত। আপনি যদি পরিবার নিয়ে বেড়াতে যান তাহলে প্রাইভেট রুম নিতে পারবেন, এটা হোটেলের চেয়ে অনেক সস্তা হবে। আর যদি রোমাঞ্চই হয় আপনার পছন্দ তাহলে সোজা ক্যাম্পিং করুন, কোন সমস্যা নেই।

নিজে রান্না করে খাওয়াই সস্তা, বাইরে খাওয়ার চেয়ে। বাইরে খাবার খরচ এত বেশী যে তাতে আপনার বেড়ানোর টাকাগুলো অযথাই খরচ হয়ে যাবে।

ইন্টারনেট ব্যবহার
আপনি যদি স্মার্টফোনে দৈনন্দিন অনেক কাজ যেমন আবহাওয়ার তথ্য খোঁজা, কোন জায়গার লোকেশন জানা ইত্যাদিতে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য দুঃসংবাদ। অস্ট্রেলিয়ায় ইন্টারনেট খুবই ব্যয়বহুল এবং গতিও বাজে। ওয়াই ফাই পাবেন শুধু হোস্টেল এবং ক্যাফেতে। কিন্তু সেটার স্পিড এতই কম যে আপনি বিরক্ত হয়ে যাবেন। তবে আপনাকে রক্ষা করতে আছে ম্যাকডোনাল্ডস। আপনি যদি ইন্টারনেটের খুবই প্রয়োজন বোধ করেন তাহলে ঢুকে যান ম্যাকডোনাল্ডসে, তারা ফ্রি ওয়াই ফাই দিয়ে থাকে। তবে ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকার সবচেয়ে ভাল বুদ্ধি হল, লোকাল সিম কার্ড কিনে ফেলা। কিন্তু এতে ৩০-৫০ ডলার খরচ হবে আপনার, নির্ভর করছে কতটা ডাটা আপনি ব্যবহার করছেন তাঁর উপর।

অসুস্থ্য হলে
আপনি ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়তেই পারেন। আগে থেকে তো সেটি জানা সম্ভব না। কিন্তু কিছু ঔষধ সাথে রাখুন। সেই ঔষধ অবশ্যই কাস্টমসে পরীক্ষা করা হবে। সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারের সাহায্য নিয়ে একটি প্রেসক্রিপশন সাথে রাখুন। নিজের দেশ থেকে জ্বর নিয়ে গেলে অস্ট্রেলিয়া ৬ ডিন যাওয়ার আগে আপনাকে ভ্যাক্সিন দেবে না। তাই নিজেই প্রস্তুতি রাখুন। দরকারে ভ্যক্সিন দেশ থেকেই দিয়ে যান।

শপিং
বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। ভাববেন না। এয়ারলাইন টিকেট কাটার সাথে সাথে আপনার কেনাকাটায় ডিউটি ফ্রি সুবিধাটি যোগ হয়ে গেছে। তাই সানন্দ্যে কেনাকাটা করুন।

রোদ
অস্ট্রেলিয়ার রোদ খুবই কড়া। তাই সারাক্ষণ বীচে থাকা বা রৌদ্রে ঘুরে বেড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয় মোটেও। প্রচুর সানব্লক ব্যাবহার করুন। দেশের তুলনায় এই রোদের তাপমাত্রা এবং ক্ষতি করার ক্ষমতা অনেক বেশী। আপনি দ্রুত কালো হয়ে যাবেন, ত্বক পুড়ে যাবে আর সেটা স্বাভাবিক হতে লেগে যাবে অনেক দিন।