মেইন ম্যেনু

অস্থির সাকা, শান্ত মুজাহিদ

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের রায় কার্যকর করা হতে পারে যেকোনো সময়। আইনি সব প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়াই কেবল বাকি আছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামি প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না বিষয়টি জানতে কারাগারে প্রবেশ করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর ও মুশফিক। প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে যেকোনো মুহূর্তে তাদের দণ্ড কার্যকর করা হবে।

ইতিমধ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজের আদেশ তাদের পড়ে শোনানো হয়েছে।

রিভিউ আবেদনের রায় শোনার পর কারাগারে এই দুই নেতা কেমন আছেন?

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার প্রথমে রেডিওতে রায়ের খবর শোনেন দুজন। এ সময় আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ স্বাভাবিক ছিলেন। তবে অস্থিরতা দেখো গেছে সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মধ্যে।

রায় শোনার পর সাকা বলেছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি। এ সময় তাকে বেশ বিচলিত দেখা যায়।

সূত্রটি আরও জানায়, রায় শোনানোর পর থেকেই দুই আসামির কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্বভাবসুলভ আচরণে না থাকলেও তাকে অনেকটা বিচলিত দেখা যায়।

গতকাল সকাল সাতটার দিকে একজন কারারক্ষী তিনটি রুটি, গুড় ও ডাল নিয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কক্ষে যান। খাবার না খেলেও সালাউদ্দিন তার সঙ্গে কথা বলেন। গ্রামের বাড়ি কোথায়, কত দিন চাকরি করছেন, ছেলেমেয়ে কতজন এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেন তিনি।

শুধু তা-ই নয়,রায় শোনার পর থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো খাবার খাননি সালাউদ্দিন। পরে কারারক্ষীদের অনুরোধে তিনি দুপুরের খাবার খান।

এর আগে দুপুরে কারা মসজিদে দুজনই একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। ওই সময় নামাজে অংশগ্রহণকারী সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা। দিনের বাকি সময় সাকা চৌধুরীকে খুব বিমর্ষ ও চিন্তিত দেখা গেছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ৬ নম্বর কনডেমড সেলে ৭ থেকে ৮ বর্গফুটের কক্ষে দিনের বেশির ভাগ সময় পায়চারি করেই কেটেছে এই বিএনপি নেতার। কিছুক্ষণ পরপর কনডেমড সেলের শিক ধরে উদাস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থেকেছেন তিনি। মাঝে মাঝে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারও করেন।

অন্যদিকে, এর ব্যতিক্রম ছিলেন জামায়াত নেতা মুজাহিদ। কারা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দিনের বেশির ভাগ সময় কোরআন শরিফ পড়ে সময় কাটান তিনি। তাকে বেশ শান্ত ও স্বাভাবিক দেখা গেছে।