মেইন ম্যেনু

অ্যাজমা অ্যাটাক প্রতিরোধ করুন এই ৯টি উপায়ে

অ্যাজমা এমন একটা রোগ, নিয়ন্ত্রণে রাখলেও যখন তখন হতে পারে অ্যাটাক। কী কী কারণে অ্যাটাক হয়, এসব কারণ জানা থাকলে ভবিষ্যতে আপনি আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যেতে পারবেন, বিপজ্জনক কোনো পরিস্থিতির মাঝে পড়তে হবে না। এই উপায়গুলো নিতান্তই সহজ, একটু খেয়াল করলেই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারবেন অ্যাজমা রোগীরা।

চিকিৎসার ওপরে বিশ্বাস রাখুন
অ্যাজমা একটি ক্রনিক ডিজিজ হলেও এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে এবং যথাযথ ওষুধের সহায়তার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন অ্যাজমা রোগী। এই চিকিৎসার ওপরে বিশ্বাস রেখে নিয়ম মেনে চললে আপনিও সুস্থ থাকবেন।

সূর্যালোকের সাহায্য নিন
সূর্যের আলোয় কিছুটা সময় কাটানো আপনার জন্য ভালো হতে পারে। তা করতে না পারলে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। ভিটামিন ডি এর অভাবে অ্যাজমা রোগীর পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।

ঘর রাখুন পরিষ্কার
বেশি আর্দ্রতায় ঘর স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে থাকলে অ্যাজমা রোগীর জন্য তা ক্ষতিকর। স্যাঁতস্যাঁতে বাথরুম, ভেজা ভেজা বেসমেন্ট, পাইপের লিকের কারণে শ্যাওলা- এগুলোর কারণে ওই বাড়িতে থাকা মানুষের অ্যাজমা অ্যাটাক হতে পারে।

হার্টবার্ন অবহেলা করবেন না
অ্যাজমার পাশাপাশি অন্যান্য কিছু উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এর মাঝে একটি হলো হার্টবার্ন বা বুকে জ্বালাপোড়া। আবার হার্টবার্নের কিছু ওষুধ অন্যান্য অসুখ তৈরি করতে পারে। প্রাকৃতিক উপায়ে হার্টবার্ন কমিয়ে আনতে পারেন।

ব্যায়ামের সময়ে সতর্ক থাকুন
এক্সারসাইজ ইনডিউসড অ্যাজমা বলে একটা সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যা থাকলে রোগীরা শুধুমাত্র ব্যায়ামের কারণে অ্যাজমার সমস্যায় ভোগেন। এর কারণে সতর্ক থাকুন। ইনহেলার নিয়ে যেতে পারেন ব্যায়ামে যাবার সময়ে। অথবা ব্যায়াম শুরুর আগেও কিছু ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। যোগব্যায়াম নিয়মিত করলেও উপকার হতে পারে। দরকার মনে করলে বাসার ভেতরে ব্যায়াম করুন।

ইলেকট্রনিক পণ্য বাড়ির বাইরে আনপ্যাক করুন
এসব পণ্যের প্যাকেটের ভেতরে কিছু রাসায়নিক থাকে যা বাতাসের সাথে মিশে আপনার অ্যাজমার পরিস্থিতি খারাপ করতে পারে। এসবের প্যাকেট ঘরের বাইরে, বারান্দায় বা ছাদে খুলুন এবং কিছুটা সময় পর বাক্স ঘরে নিন।

মেজাজের ওপর নজর রাখুন
অনেক সময়ে অ্যাজমা অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে খারাপ মেজাজ। অ্যাজমা অ্যাটাকের আগে মস্তিষ্কসহ পুরো শরীরে অক্সিজেনের অভাব হতে পারে। এতে মেজাজ খারাপ হতে পারে হুটহাট। ক্লান্তি, বিরক্তি, রাগ অথবা মেজাজ পরিবর্তন হতে পারে অ্যাজমা অ্যাটাকের লক্ষণ। এ সময়ে সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজনে ইনহেলার ব্যবহার করুন।

এয়ার ফ্রেশনার এবং সুগন্ধি মোমবাতি থেকে দূরে থাকুন
অনেক এয়ার ফ্রেশনারে ফরমালডিহাইডের মতো রাসায়নিক থাকে যেগুলো চোখ এবং শ্বাসযন্ত্রের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এগুলো অ্যাজমা অ্যাটাকেরও কারণ হতে পারে। মোমবাতি পোড়ানোর কারণেও হতে পারে এই সমস্যা। এগুলোর বদলে ঘরের জানালা-দরজা খুলে ফ্রেশ বাতাস চলাচল করতে দিন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ওবেসিটি এমন একটি জটিলতা যা থাকলে অ্যাজমাও থাকবে ধরে নেওয়া যায়। অতিরিক্ত ওজন থাকলে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ করাটাও কঠিন হয়ে পড়ে। ওজন কমিয়ে আনা গেলে অ্যাজমাও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে আরেকটি কাজ করা জরুরী, আর তা হলো সিগারেট থেকে দূরে থাকা। আপনি নিজে তো ধূমপান করতে পারবেনই না, অন্যান্য ধূমপায়ীদের থেকেও দূরে থাকতে হবে। ধূমপান ছাড়াও কিছু অ্যালার্জিক উপাদানের কারণে অ্যাজমা অ্যাটাক হতে পারে। এ কারণে বিছানাপত্র, পুতুল এবং পোষা প্রাণী পরিষ্কার রাখুন। এছাড়াও ঠাণ্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখুন রোগীকে।