মেইন ম্যেনু

অ্যাজমা : প্রাথমিক ধারণাটা নিয়ে রাখুন!

এই রোগের কারণ সঠিকভাবে জানা না গেলেও কোন কিছুকে এককভাবে দায়ি করা যায় না। গবেষণাতে দেখা গেছে-

১। বংশগত বা পরিবেশগত কারনে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। নিকটাত্মীয় কেউ যদি এতে আক্রান্ত থাকেন বা কোন দ্রব্যের প্রতি অধিকমাত্রায় অ্যালার্জিক হলে তার অ্যাজমার সমস্যা হতে পারে।

২। ধুলোবালির মধ্যে থাকা ‘মাইট’ নামের অতি ক্ষুদ্র কীট, ফুলের পরাগরেণু, পশুপাখির পালক ইত্যাদি থেকেও অ্যাজমা হবার সম্ভাবনা আছে।

৩। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান অ্যাজমা হবার অন্যতম কারণ। ধুমপানের ফলে শুধুমাত্র শ্বাসকষ্টই হয় না বরং অ্যাজমা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়াও অ্যাজমা র ওষুধের কার্জকারিতা অনেক সময় ধূমপানের কারনে নস্ট হয়ে যেতে পারে এবং ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

৪। অনেক সময় অ্যালার্জি জাতীয় খাবার, যেমন- চিংড়ি, হাঁসের ডিম, গরুর মাংস, বেগুন, পুঁইশাক, ইলিশ মাছ ইত্যাদি গ্রহনের ফলে অনেকের অ্যালার্জি হয়ে থাকে। তবে খাবারের মাধ্যমে খুব কম লোকের শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫। এছাড়াও অনেক সময় অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বিভিন্ন সুগন্ধি, মশার কয়েল, কীটনাশকের গন্ধ থেকেও শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে।

যেহেতু অ্যাজমা এক প্রকার প্রদাহজনিত রোগ তাই প্রদাহের ফলে শ্বাসনালী ফুলে যায়। এর ফলে তা অধিক মাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এবং এর ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে।

Asthma_Attack

উপসর্গ

অ্যাজমা তে আক্রান্ত হলে শ্বাসনালীতে যে সকল পরিবর্তন হয়ে থাকে:

১। শ্বাসনালী লাল হয়ে যায় এবং ফুলে যায়।

২। চারপাশের মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে যায় তাই শ্বাসনালী আরও সরু হয়ে যায়।

৩। শ্বাসনালীতে অধিক পরিমানে স্মেশ্মা জমে, এবং এর ফলে শ্বাসনালীর বায়ুপ্রবাহ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এই সকল কারণে একজন রোগীর যে সকল উপসর্গ দেখা দেয় তা হল:

১। কাশি

২। শ্বাসকষ্ট

৩। বুকে চাপ লাগা

৪। শ্বাসপ্রশ্বাসে শাঁ শাঁ আওয়াজ হওয়া

৫। অল্পতেই দম ফুরিয়ে যাওয়া

সাধারনত সকালে বা রাতে এই উপসর্গগুলো বেশি দেখা যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে কাশি বা শ্বাসকষ্ট শুরুর আগে নাক চুল্কায়, হাঁচি হয়, নাক দিয়ে পানি পড়ে, চোখ লাল হয়ে যায়।

Asthma-symptoms.

যে সকল বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ:

একজন অ্যাজমা রোগীকে সকল সময় সাবধানে থাকা উচিৎ। এবং যে সকল জিনিসে তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয় তা পরিহার করা:

১। ধূমপান বা তামাকের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা

২। অনেক সময় ঠাণ্ডা বাতাস অ্যাজমার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় তাই এর থেকে সাবধান থাকা

৩। বাড়ির পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং বায়ু চলাচলের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকা

৪। ব্যায়াম ও শারিরিক পরিশ্রম করা যেন এর ফলে শরীর ভাল থাকে এবং উচ্চরক্তচাপ ও অন্যান্য সমস্যা থেকে দূরে থাকে।

৫। অ্যালার্জি হতে পারে এমন খাবার সতর্কতার সাথে খাওয়া

চিকিৎসা:

অ্যাজমা একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই রোগ চিকিৎসার আগে রোগির শারিরিক ইতিহাস ভাল করে জেনে নিতে হবে। সঠিক চিকিৎসা এবং ওষুধের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। তবে আবার উল্লেখ করা ভাল যে, এগুলোর সাথে সাথে যেসব উত্তেজক (ট্রিগার) কারণে অ্যাজমা র তীব্রতা বেড়ে যায় সেগুলোকে পরিহার করা।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

রোগীর নিজের ভূমিকা:

অ্যাজমা তে আক্রান্ত রোগীর নিজের ভূমিকা অনেক। তার রোগের প্রকৃতি, চিকিৎসা সম্পর্কে তার সচেতন হতে হবে। অন্যতম হল, ইনহেলার ব্যবহার করা। ঠিক সময়মত ও সঠিকভাবে ইনহেলার ব্যবহার করা।

এবং কখনই কোন রোগীকে চিকিৎসার বাইরে থাকা উচিৎ না। এই রোগ দীর্ঘমেয়াদি হলেও, নিয়মিতভাবে অ্যাজমা প্রতিষেধক ওষুধ ৩-৫ বছর ব্যাবহার করলে ৮০% রোগ নিয়ন্ত্রনে চলে আসে, এটি গবেষণায় প্রমানিত। রোগীকে নেবুলাইজারের ব্যবহার সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।

দেখাগেছে,অ্যাজমা সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা পাওয়ার পর ৭৫ শতাংশ রোগীই হঠাৎ অ্যাজমার আক্রমণ থেকে বেঁচে যায় এবং ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না।

nebulizer

অ্যাজমার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

· অনেক রোগীই অ্যাজমা চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলে, কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত অ্যাজমা আরও ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

· সঠিক চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ না করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং অকেজো হবে।

· শিশুদের অ্যাজমার ঠিকমতো চিকিৎসা না করালে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং মায়েদের বেলায় গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।