মেইন ম্যেনু

‘অ আ ক খ’ স্কুলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

বিধান মুখার্জী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের নিকটস্থ নিরিবিলি বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোর সন্ধান দিতে প্রতিষ্ঠিত ‘অ আ ক খ স্কুলের’ প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার (১৯ মে) বিকাল ৪ টায় স্কুল প্রাঙ্গনে উদযাপিত হয়েছে।

স্মৃতিসৌধের পাশে অবস্থিত ৪০-৫০ কুড়ে ঘর বিশিষ্ট এক সংকীর্ণ পল্লী যা স্থানীয়দের কাছে ‘নিরিবিলি বস্তি’ নামেই পরিচিত। বাঁশ ও পলিথিনে মোড়া এসকল কুড়েতে বসবাসরত এবং ভাসমান পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের শিশুর জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা।পরবর্তীতে অভাবের তাড়নায় এই শিশুরাই পরিচিত হয়ে ওঠে কর্মজীবী শিশু হিসাবে। সমাজকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করার ভাবনা থেকেই এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে ‘অ আ ক খ’ স্কুলের পথচলা শুরু হয় গতবছরের এইদিনে। তারপর একে একে পেরিয়ে গেছে একটি বছর। ৬৪ জন শিশুর মধ্য থেকে ২২ জন শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহনের উপযোগী করে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়েছে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের গণ পাঠশালাসহ নিকটস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের পূর্বে এভাবেই স্কুলের একবছরের প্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তির অনুভুতি ব্যক্ত করলেন স্কুলটির পরিচালক ডাঃ নাজমুল হোসাইন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ লায়লা পারভিন বানু, বিএসএমএমইউ এর ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ সায়েদুর রহমানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। স্কুলের ছোটছোট শিশুরা ফুলের তোড়া প্রদানের মধ্যদিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেন। বিকাল ৪ টায় স্কুল প্রাঙ্গনে জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর স্কুলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে শিশুদের মধ্যে বিতরণ করেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডাঃ লায়লা পারভিন বানু।

ডাঃ লায়লা পারভিন বানু তার বক্তব্যে বলেন, ‘ আমি এই ফুলের মত কোমল শিশুদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হিসেবে সম্মানিত বোধ করছি। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছি। সাধারন মানুষের উপকারের মাধ্যমে যে আনন্দ পাওয়া যায়, সেই আনন্দ মানুষকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে’।

এরপর ডাঃ সায়েদুর রহমান এই স্কুলের অগ্রযাত্রার সহযাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আমাদের তরুণ বয়সে সমাজ পরিবর্তনে আদর্শ মেনেছি চে গুয়েভারাকে। আর বাংলাদেশের সমাজ পরিবর্তনের চে গুয়েভারা হলেন ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আর তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে পাশে এসে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক’। তিনি সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দেবার মহৎ কাজে নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ তোমাদের পরিশ্রম শহীদের রক্তের মতই পবিত্র’।

অতিথিদের বক্তব্যের পর স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্বের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই