মেইন ম্যেনু

আইএসপিআর- এর সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন তনুর বাবা

কুমিল্লা সেনানিবাসের ময়নামতি অফিসার্স ক্লাবের হলরুমে বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন সোহাগী জাহান তনুর বাবা ইয়ার আলী।

তিনি বলেছেন, মেয়ের লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলের অদূরে ৩ যুবককে তিনি দৌড়ে চলে যেতে দেখেছেন। তারা ছিল লম্বা-চওড়া গড়নের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওই যুবকদের তিনি চিনতে পারেননি। তনুর সঙ্গে কারও প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা তাও তিনি বলতে পারেননি। তবে এ ঘটনায় যিনিই জড়িত থাকুক না কেন, এমনকি সেনা সদস্যরাও যদি হয়, তাদেরকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে শুধু ১৮-১৯ জন সাংবাদিককে সেনা তত্ত্বাবধানে কুমিল্লায় নিয়েই সংবাদ সম্মেলন করে আইএসপিআর। তনুর বাবার বক্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের মধ্যে তিনজনের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া সাংবাদিকদের বাইরে স্থানীয় কোনও সাংবাদিককে সংবাদ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি সংবাদ সংগ্রহের জন্য আগেই ঢাকা থেকে গিয়ে যে সাংবাদিকরা কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন, তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

তনুর মরদেহ পাওয়া যায় এখানে। ঘটনাস্থলে ঢাকা থেকে পরিদর্শনে যাওয়া এক সাংবাদিকসংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল ঘুরে দেখান আইএসপিআর-এর কর্মকর্তারা। ঘটনাটি সেনানিবাসের সীমানা প্রাচীরের কাছেই ঘটেছে বলে এসময় কয়েকবার উল্লেখ করেন তারা এবং এর সঙ্গে জড়িতরা সেনানিবাসের কেউ নয় বলে জানান।

সংবাদ সম্মলনে লিখিত বক্তব্যে আইএসপিআর-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজা-উল করিম শাম্মী বলেন, ‘তনু হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনী সম্পর্কে অনুমান নির্ভর বক্তব্য প্রদান ও প্রচার করছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা মোটেই কাম্য নয়। তনু কুমিল্লা সেনানিবাসে বড় হয়েছে, সে আমাদেরই সন্তান, তার এহেন মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রতিটি সেনাসদস্য দারুণভাবে ব্যথিত এবং মর্মাহত। সেনাবাহিনী জনসাধারণেরই অংশ এবং দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আন্তরিকভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম, কর্নেল শাম্মী ফিরোজ, কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন।

গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের মধ্যে তনুকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়। গত ২৫ মার্চ রাতে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা বিভাগে ন্যস্ত করা হলেও এর কোনও কূলকিনারা না হওয়ায় মামলাটি বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।