মেইন ম্যেনু

আইএস’র দাবির সত্যতা যাচাই করছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ‘দায় স্বীকার’ করে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট’র (আইএস) দাবির ‘সত্যতা যাচাইয়ে’ যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। যদিও সকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশে কোনো আইএস’র অস্তিত্ব নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাটিতে একটি অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত একথা জানান। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ ও মার্কিন নৌবাহিনীর যৌথ সামরিক মহড়ার ৫ম ও সমাপনী দিনে অংশ নিতে চট্টগ্রামে আসেন বার্নিকাট।

এরআগে গত ২৮ সেপেটম্বর রাজধানীর গুলশানে ইতালিয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যার পর এবং গতকাল রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হত্যার পর আইএস এই দুই হত্যাকাণ্ডের ‘দায় স্বীকার’ করেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রামে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ঢাকায় এবং রংপুরে যে দু’জন বিদেশি নাগরিককে খুন করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর আইএস’র নামে দায় স্বীকার করে দেয়া টুইট ও বিবৃতির সত্যতা যাচাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় সম্মান করে। আশা করছি এবারো তারা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মার্শা বার্নিকাট বলেন, ‘বিদেশি নাগরিক হত্যার সাথে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশে খেলতে না আসার কোনো প্রাসংঙ্গিকতা নেই। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি একটি পৃথক ঘটনা। তারা কেন বাংলাদেশে আসেনি সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।’

এরআগে গতকাল শনিবার সকালে রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকাণ্ডের পর বিকেলে এই হত্যকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত দাবি করে বিবৃতি দিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শ বার্নিকাট।

বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান চালানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই।’ একই সাথে নিহত কুনিও’র পরিবার ও তার বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান বার্নিকাট।

এরআগে সকালে ‘কো অপারেশন এ্যাফ্লোট রেডিনেস অ্যান্ড ট্রেইনিং ২০১৫’ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ব্যক্তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অবৈধ মানবপাচার ও মাদকরোধ এবং জলদূস্য বিরোধী বিশেষ করে বহুজাতিক অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র সম্মান করে। সন্ত্রাবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিশ্রুতি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে, দু’দেশের মধ্যে আজকে যৌথ সামরিক নৌ মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়া। আমরা বাংলাদেশ সরকারের সাথে সব সময় কাজ করতে চাই। শুধু বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে নয় পুরো ইন্দো এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের মানবপাচার ও চোরাচালন রোধে আমরা এক সাথে কাজ করতে চাই।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল আখতার হাবিব এবং কমডোর এম খালেদ ইকবাল প্রমুখ। এরআগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বঙ্গোপসাগরে দু’দেশের নৌবাহিনীর উদ্যোগে পাঁচ দিন ব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হয়।