মেইন ম্যেনু

আইএস’র যৌনদাস বাণিজ্যের সত্যতা নিশ্চিত করলেন জাতিসংঘ প্রতিনিধি

নিজেদের কাছে আটক থাকা নারীদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করছে সশস্ত্র সুন্নিপন্থী সংগঠন আইএস। একইসঙ্গে বয়সভেদে যৌনদাসীদের আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের তালিকায়। সশস্ত্র সংগঠনটির সেই তালিকায় শিশু যৌনদাসীর দাম ধরা হয়েছে সবচেয়ে বেশি ১৬৫ ডলার। সশস্ত্র কর্মকাণ্ডটির প্রায় এক বছরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার পর অবশেষে আইএস-এর বিরুদ্ধে ওঠা যৌনদাসী ক্রয়-বিক্রয়ের এসব খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ।

গেল নভেম্বরে ইরাক ও সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি মূল্য তালিকা অনলাইনে প্রকাশিত হয়। তবে জাতিসংঘ এপ্রিলে এর কপিটি নিজেদের কাছে রাখে এবং সত্যতা নিশ্চিতে আরো সময় নেয়। অবশেষে জাতিসংঘ মহাসচিবের যৌনসহিংসতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাব বাঙ্গুরা ওই তালিকার সত্যতা নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

আইএস যৌনদাসীদের কীভাবে বিক্রি করে সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বাঙ্গুরা ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘সেখানে নারীদের আসলে তেলের ড্রামের মতো ব্যবহার করা হয়। একজন নারীকে ৫ থেকে ৬ জন পুরুষ কিনতে পারে। কখনোবা এই পুরুষেরা মেয়েটিকে তাদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেয়।’

বাঙ্গুরার তথ্য অনুযায়ী ব্লুমবার্গ জানায়, ‘বয়সের ভিত্তিতে মেয়েগুলোর দাম নির্ধারিত করে আইএস। যার বয়স যত বেশি তার দাম তত কম। প্রকাশিত প্রতিবেদনে নারীদের মূল্য দেয়া হয়েছিলো কুয়েতি দিনারে। সেখানে দেখা যায় ১০ বছরের কম মেয়েদের দাম সবচেয়ে বেশি ১৬৫ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য ১২,৮১০ টাকা। কিশোরী তরুণী ও ২০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এর মূল্য ১২৪ ডলার যা টাকায় দাঁড়ায় ৯,৬১২ টাকা। ৪০ বছরের উপরের নারীদের মূল্য তাদের কাছে সবচেয়ে কম যা ৪১ ডলার অর্থাৎ ৩,১৭৭ টাকা।

মেয়েদেরকে সরাসরি বিক্রি বা নিলামের ব্যাপারটি সংগঠনের সৈন্যদের পদমর্যাদা এবং অর্থের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। প্রথমে আইএস এর কমান্ডারদেরকে যৌনদাস কেনার জন্য সুযোগ দেয়া হয়। এছাড়া ধনী বিদেশিরাও এতে অংশগ্রহণ করে থাকে বলে জানান বাঙ্গুরা।

আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এই যৌনব্যবসা বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করেন বাঙ্গুরা। তিনি বলেন, তাদের অস্ত্র রয়েছে, এমনকি নারীদের সঙ্গে কি রকম ব্যবহার করতে হবে তার একটি নির্দেশনা আছে। তাদের বিবাহ কমিটি আছে যারা ‘তথাকথিত’ বিয়ে দিয়ে থাকে এবং তাদের একটি মূল্য তালিকাও আছে।’
আইএস কোনো সাধারণ বিদ্রোহী সংগঠন নয় বলে মন্তব্য করে বাঙ্গুরা জানান, ‘তারা অন্যান্য সংগঠন থেকে অনেক বেশি সংগঠিত এবং তাদের সামরিক শক্তিও অনেক।’

ইরাক আর সিরিয়ায় বিভিন্ন এলাকা দখলের পর ৩ হাজারেরও বেশি নারীকে অপহরণ করে আইএস। এছাড়াও সংখ্যালঘু অনেক সম্প্রদায়ের নারীদেরকেও জিম্মি করেছে তারা। নারী দাস ও শিশুদের সঙ্গে তাদের বাহিনীর সদস্যরা কেমন ব্যবহার করবে সে বিষয়ে গেল বছরের শেষ দিকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আইএস। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আইএস সদস্যরা এসকল নারীদের সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে পারবে। আর কুমারী মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে। আর যদি সে কুমারী না হয়ে থাকে তবে তাকে তাদের মতে ‘বিশুদ্ধ’ করে নিতে হবে। সেখানে আরো বলা হয় যে এ সকল দাসদের প্রহার করা যাবে কিন্তু তার মুখে কোনোরকম আঘাত করা যাবে না।

ইসলামে বিশ্বাস না করার কারণে এসব নারীকে যৌনদাসে পরিণত করে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে বলে দাবি করে আইএস।