মেইন ম্যেনু

আইএসের ম্যাগাজিনে তামিমের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল

আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের তথ্যমতে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মোজাহেদীন বাংলাদেশ- জেএমবিকে নতুন করে সংগঠিত করে তামিম আহমেদ চৌধুরী। তিনি ছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক। প্রায় তিন বছর আগে কানাডা থেকে বাংলাদেশে আসেন তিনি। এরপর গত দুই বছরে জেএমবির বেশ কয়েকটি আলোচিত হামলার ঘটনায় নাম উঠে আসে তার।

তবে গুলশান হামলার আগে তামিমের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য জানতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী।

পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রাম সাদিমাপুরের শফিক আহমেদ চৌধুরীর ছেলে তামিম। তার দাদার নাম আবদুল মজিদ চৌধুরী। তিনি একাত্তরে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তামিমের বাবা শফিক আহমেদ চৌধুরী জাহাজে চাকরি করতেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি পরিবার নিয়ে কানাডায় চলে যান। সর্বশেষ ২০০১ সালে স্বপরিবারে দেশে ফিরে আসেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে কানাডার উইন্ডসরে থাকতেন তামিমও।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর তামিম বাংলাদেশে আসেন। এরপর থেকে নিখোঁজ তিনি। তার পাসপোর্ট নম্বর এএফ-২৮৩৭০৭৬। পুরাতন পাসপোর্ট নং এল ০৬৩৩৪৭৮। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৮৬০০৯১২৪১০০১৩৪২। জন্ম তারিখ ২৫ জুলাই ১৯৮৬।

বিদেশী গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, তামিম আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশে কথিত আইএস খিলাফতের প্রধান সমন্বয়ক। যদিও পুলিশ প্রধান একেএম শহীদুল হক শনিবার নারায়ণগঞ্জের অপারেশন স্ট্রং টুয়েন্টি সেভেন শেষে গণমাধ্যমকে জানান তামিম ছিলেন নব্য জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান।

দলীয় কর্মীদের কাছে ও অ্যাপসে তার নাম ব্যবহার করা হয় ‘বাংলার বাঘ’। এছাড়া কথিত আইএসের কাছে তার ছদ্মনাম শায়খ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ।

কানাডার পত্রিকা ন্যাশনাল পোস্টের এক খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী আইএসের কথিত ‘বাংলার খিলাফত দলের প্রধান’। তবে তার সাংগঠনিক নাম শায়খ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ। তিনি কানাডা থেকে বাংলাদেশে গেছেন। গত ১৩ এপ্রিল আইএসের কথিত মুখপাত্র ‘দাবিক’-এর ১৪তম সংখ্যায় আবু ইব্রাহিম আল-হানিফের (তামিম চৌধুরী) দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, কৌশলগত কারণে বাংলাদেশে শক্ত ঘাঁটি করতে চায় আইএস।

আইনশৃংখলা বাহিনীর তথ্যমতে তামিম আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশে তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়ানো ও অর্থ দেয়াসহ দেশীয় জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশে ফেরার পর থেকেই তামিম জেএমবিকে নতুন করে সংগঠিত করতে শুরু করে। তার নেতৃত্বেই বর্তমান জেএমবির নতুন ধারাটি হয়ে ওঠে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক।

গত দুই বছরে ঢাকাসহ দেশের উত্তরাঞ্চল এবং বিভিন্ন স্থানে জেএমবিকে হত্যা ও হামলার মিশনে দেখা যায়। এভাবে বেশ কয়েকটি ‘সফল’ অভিযানের পর তারা গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলার মতো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার ঘটনা তদন্তে নেমে তামিমের বিষয়ে তথ্য পান আইনশৃংখলা বাহিনীর তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নিখোঁজ ১০ তরুণের তালিকাতেও তার নাম দেখা যায়। পুলিশ জানায়, নতুন করে সংগঠিত জেএমবির অন্যতম নেতা তামিম। তার নেতৃত্বেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে জঙ্গিরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় আহত অবস্থায় গ্রেফতার রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, জাহাজ বিল্ডিং নামে পরিচিত তাজ মঞ্জিলের আস্তানায় অন্য ‘বড় ভাই’দের পাশাপাশি নিয়মিত যেতেন তামিম আহমেদ চৌধুরী। অভিযানে নিহত জঙ্গিদের তিনি প্রশিক্ষণ দিতেন। আর্থিকভাবে সহায়তাও করতেন।

তামিম সম্পর্কে গুলশান হামলা মামলার তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটি) প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, গুলশান হামলার সময় দেশে ছিলেন তামিম। তিনি হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ও হামলার বিষয়ে ব্রিফিং দিয়েছেন। হামলার মূল মাস্টারমাইন্ডদের একজন এ তামিম।

এদিকে আজ শনিবার নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে যে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছেন সেখানে তামিম আহমেদ চৌধুরী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক।

তিনি বলেন, কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় থাকা জঙ্গিদেরই একটি অংশ নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় আস্তানা গড়ে তোলে। ময়মনসিংহ থেকে আটক এক জঙ্গির কাছে এমন তথ্য পেয়ে পুলিশ জঙ্গিদের আস্তানার সন্ধান পেয়ে আজ অভিযান চালান।

শহীদুল হক বলেন, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে জেএমবির নতুন সাংগঠনিক নেতা তামিম আহমেদ চোধুরী নিহত হয়েছেন।