মেইন ম্যেনু

আইএস ইস্যুতে রোহানের কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই : আইজিপি

‘গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়েছিল আইএস, দেশীয় জঙ্গিরা নয়। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব হামলাকারীদের প্রসঙ্গে অসত্য তথ্য দিয়েছেন।’

ঢাকায় পুলিশপ্রধানদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে জঙ্গিবাদ নিয়ে এক উপস্থাপনায় এসব কথা বলেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের (আইসিপিভিটিআর) পরিচালক রোহান গুণারত্নে।

‘রোহান গুণারত্নের কথার সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই’ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ১৪ দেশের পুলিশপ্রধানদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ দাবি করেন।

আইজিপি বলেন, “রোহান কোন পুলিশ অফিসার নন, তিনি জননিরাপত্তার সঙ্গে জড়িতও নন। তিনি একজন একাডেমিক পার্সন। বাংলাদেশের ইস্যু তিনি জানেন না। তিনি যাই বলুন, তার কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকতে হবে। কিন্তু আমরা তার কথার সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল পাইনি। এটা তার নিজস্ব বক্তব্য। আমরা তার বক্তব্য ‘এন্ডোর্স’ (সমর্থন অথবা অনুমোদন) করি না।”

আইজিপি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কেউ আইএসে যোগ দিতে কিংবা প্রশিক্ষণে দেশের বাইরেও যায়নি। গুলশান হামলার দায় স্বীকার করলেও ওই ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে যেসব জঙ্গি নিহত হয়েছে আইএস তাদের নিজেদের বলে দাবি করেনি। এখন পর্যন্ত আমরা যেসব জঙ্গিদের গ্রেফতার করেছি তারা কেউ আইএসের কথা বলেনি। তাদের পরিবারের কেউও আইএসের বিষয়েও জানে না।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারি এবং ও’কিচেন রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা হয়। জঙ্গিরা ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গেলে জঙ্গিদের বোমায় নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি ও রেস্তোরাঁর এক পাচক নিহত হন। হামলার রাতেই অনলাইনে নৃশংসতার ছবি প্রকাশ করে ঘটনার দায় স্বীকার করে আইএস। যদিও বাংলাদেশ সরকার তা নাকচ করে দেয়।

তবে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ১২ জুন পর্যন্ত পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আইএস-সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার করে এবং তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগপত্রও দেয় আদালতে। ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর গুলশানে ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলাকে হত্যার পর প্রথম আইএসের নামে দায় স্বীকারের খবর বের হয়। তখন থেকেই সরকার ও পুলিশ এই দাবি নাকচ করে আসছে। বাংলাদেশ সরকার বলছে, বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’।

বাংলাদেশ পুলিশ ও ইন্টারপোলের যৌথ আয়োজনে এই সম্মেলন চলবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত। সম্মেলনে আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনামসহ ১৪টি দেশের পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করছেন।

এছাড়া ইন্টারপোল, ফেসবুক, ইন্টারপোল গ্লোবাল কমপ্লেক্স ফর ইনোভেশন (আইজিসিআই), যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), আসিয়ানাপোল (ASEANAPOL), ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ট্রেনিং অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রামসহ (আইসিআইটিএপি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।