মেইন ম্যেনু

আইএস-এর কবল থেকে পালিয়ে আসা যৌনদাসী মহিলারা

তারা ভার্জিন কি না, তার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে যে নারকীয় অত্যাচার হয়েছে, আদালতে তার প্রমাণ দিতে হবে। আইএস জঙ্গিদের কবলে পড়ে, তাঁদের ওপর যে নৃসংশ অত্যাচার করা হয়েছে, তার প্রমাণ দিতেই ভার্জিনিটি টেস্ট দিতে হবে, ইরাকি কোর্টের এ হেন নিদানে এবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন, আইএস-এর কবল থেকে পালিয়ে আসা যৌন ক্রীতদাসী মহিলারা।

একটি সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি আইএস-এর কবল থেকে পালিয়ে আসা ইয়াজিরি সম্প্রদায়ের এক মহিলা জানিয়েছেন, আইএস জঙ্গিরা প্রথমে তাঁকে অপহরণ করে। এরপর ৪ বার বিভিন্নভাবে বিক্রি করা হয় তাঁকে। প্রত্যেকবার বিক্রির পরই নৃসংশ অত্যাচারের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কোনওক্রমে আইএস জঙ্গিদের কবল থেকে পালিয়ে এসেছেন ওই নারী। কিন্তু, যেভাবে তাঁর ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।

কিন্তু, তাতেও হয়নি কোনও কাজ। আদালতে রীতিমত ভার্জিনিটি টেস্টের মুখোমুখি পড়তে হয় তাঁকে। ওই ঘটনা প্রচার হওয়ার পর পরই সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি, মানবাধিকার কমিশন থেকে ওই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, আইএস জঙ্গিদের হাতে তাঁদের অত্যাচারিত হয়ে হয়েছে কি না, তার প্রমাণ দিতেই জোর করে বেশ কিছু ইয়াজিরি সম্প্রদায়ের মহিলাকে ভার্জিনিটি টেস্টের জন্য বাধ্য করছে ইরাকি কোর্ট। রোহতনা বেগম নামে এক নারী দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। তাঁর কথায়, আইএস জঙ্গিদের কবল থেকে পালিয়ে আসার পর বেশ কিছু মহিলা তাঁদের নৃসংশ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। পাশপাশি, ধর্ষণ হয়েছে, ওই প্রমাণ দিতে ইরাকি অফিসিয়ালরা কী করে ওই মহিলাদের ভার্জিনিটি টেস্টের জন্য বাধ্য করেন, সে বিষয়েও জানানো হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এ সমস্ত ক্ষেত্রে বেশ কিছু দেশে ভার্জিনিটি টেস্ট করানো হয়। কিন্তু, ভার্জিনিটি টেস্টের বৈজ্ঞানিক কোনও ভিত্তি নেই বলেও জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যদিও, কুর্দিশ কর্মকর্তাদের একাংশ এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনকে তথ্য যাচাই করার অনুমতি দিয়েছে। এখন দেখা যাক, মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় ইরাকি কোর্টের ওই ভার্জিনিটি টেস্টের নিদান বন্ধ হয় কি না?