মেইন ম্যেনু

আইএস মধ্যযুগীয় অস্ত্র ব্যবহার করছে নারী নির্যাতন করতে!

এক বছর আগের তুলনায় বর্তমান আইএস জঙ্গিরা আরও বেশি খেপাটে, সহিংস ও উন্মাদ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নারীদের ওপর আইএসের সাম্প্রতিক নির্যাতন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। নারীদের নির্যাতনের জন্য সম্প্রতি এক ধরনের ধাতব যন্ত্র ব্যবহার করছে আইএস, যা সাধারণ লোহা ও ইস্পাত দিয়ে তৈরি। আইএসের জঙ্গিরা এগুলোকে ‘বাইটার’ বা ‘চিপার’ বলে থাকে। এগুলো দেখতে কিছুটা সাঁড়াশির মতো। তবে সাঁড়াশির দাঁতগুলো খুব ধারালো। এই সাঁড়াশি দিয়ে নারীদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গে চেপে ধরা হয়। আর তাতে উঠে আসে থোক থোক মাংস। যদি কোনো নারী কালো পোশাক দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত না ঢেকে চলে, তবে তাকে ধরা হয়।

আবার কেউ যদি আইএসের নির্দেশ মতো বোরখার নিচে কালো ট্রাউজার বা ঢোলা কাপড় না পরে, তবে তাকেও ধরে আনা হয়। অথবা কারও যদি মুখ দেখা যায়, তবে পাকড়াও করা হয়। তা ছাড়া হাত, পায়ের গোড়ালি কোনো কিছু আলগা থাকলে নিস্তার নেই। সঙ্গে সঙ্গে ধরা হয় তাকে। ধরে যে শাস্তি দেওয়া হয়, তার মধ্যে ‘বাইটার নির্যাতন’ একটি। দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে খুবলে খুবলে মাংস তুলে নেওয়া হয়। মসুলের একটি বিদ্যালয়ের এক সাবেক পরিচালক চলতি মাসে শহরটি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী- শরীর থেকে মাংস টুকরো টুকরো করে তুলে আনা হয় অস্ত্রটি দিয়ে, যার ফলে ভয়াবহ শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয় নারীদের। খবর দ্য ইনডিপেনডেন্টের।

ফাতিমা, ২২ বছরের এক গৃহিণী। নিজের পুরো নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নন তিনি। বেশ কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত মসুল থেকে পালাতে পেরেছেন তিনি। তিনি পালিয়েছেন কারণ তার সন্তানরা অনাহারে ছিল। কুর্দিশদের নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার মাবরুকা শিবিরে পৌঁছে এ নারী জানান, দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়া ওই অস্ত্রটি গত মাসে তার বোনের ওপর ব্যবহার করেছিল জঙ্গিরা। ভুলে হাতমোজা না পরে বাইরে বের হওয়ায় অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল বোনকে। এক মাস পরেও বোনের হাতে সেই নির্যাতনের ক্ষত ও দাগ প্রায় একই রকম রয়ে গেছে। তিনি জানান, নারীদের সম্পূর্ণ ঢেকে থাকতে দেখতে চায় আইএস। বস্তার মতো ঢিলেঢালা পোশাক, মোজা ও হাতমোজা পরে বাইরে বের হলে এ সময় তাদের সঙ্গে একজন পুরুষ স্বজন থাকাও বাধ্যতামূলক। ফাতেমা বলেন, যন্ত্রটির কারণে যে পরিমাণ ব্যথা সহ্য করতে হয়, তার চাইতে প্রসববেদনার ভয়াবহতা অনেক কম।