মেইন ম্যেনু

আইনমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি : রাবি শিক্ষক সাসপেন্ড

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হককে কটুক্তি করে মন্তব্য করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক মো. শিবলী ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সভাপতিত্বে রাবির ৪৫৭ তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ ঘটনা তদন্তে রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হককে আহ্বায়ক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা ড. মো. ফয়জার রহমান ও সিন্ডিকেট সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহিম হোসেনকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সিন্ডিকেট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেটের একজন সদস্য জানান, আইনমন্ত্রীকে কটুক্তি করার তথ্য প্রমাণসহ মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬ এর ৫৭ ধারা অনুযায়ী এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়কে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথপোযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়। এজন্য বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় সকল সদস্যের সম্মতিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গুলশান হামলার পর গত ১৩ জুলাই আইনমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শিক্ষক শিবলী ইসলাম কটুক্তি করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রভাষক মো. শিবলী ইসলাম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে আইন বিভাগের শিক্ষক হয়েছেন। বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার সময় ওই শিক্ষকের মাস্টার্স (এলএলএম ডিগ্রী) পরীক্ষা শেষ হয়নি। তার অনার্সে প্রথম শ্রেণি ছিল না। তাই তিনি ওই নিয়োগে শিক্ষক হওয়ার যোগ্য ছিলেন না। কিন্তু আইন বিভাগের তৎকালীন দায়িত্বে থাকা জামায়াতপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান ওই শিক্ষকের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে বলে একটি প্রশংসাপত্র দিয়েছিলেন। ওই সময়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এম. আনিসুর রহমান বিশেষ কাজে বাইরে থাকায় তারস্থলে আবদুল হান্নান দায়িত্বে ছিলেন। শিবলী ইসলামকে অবৈধভাবে চাকুরি দেয়ার কারণে ওই সময়ের চাকরিপ্রার্থী জহুরুল ইসলাম একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলা এখনও চলছে। শিবলী ইসলামের চাকরি এখনও স্থায়ী বা তার কোনো পদোন্নতি ও হয়নি।