মেইন ম্যেনু

আইনের সামনে হেরে গেল ভালবাসা

অনেকে বলে থাকেন, ভালবাসার কোন ধর্ম নেই, কোন বয়স নেই এবং বিয়ের জোড়া তৈরি হয় জান্নাতে। তবে এই বিবাহিত জোড়া মনে হয় জান্নাতে তৈরি হয়ে আসে নি। কিন্তু কেন?

ভারতের উড়িষ্যার সাহসপুর গ্রামের ২২ বছর বয়সী দিপাক জেনা সেই গ্রামের একজন ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে ভালবেসে বিয়ে করে খুব বড় ধরণের জরিমানার শিকার হয়েছেন। গত বছর এই প্রেমিক যুগল বাসা থেকে পালিয়ে যেয়ে একটি মন্দিরে বিয়ে করেন। সেখান থেকে আগ্রার এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন।

আজ যেখানে সবাই ভালবাসা দিবস পালন করছে, সেখানে সেই ছেলেটি জেলের পেছনে বসে আছে। বিয়ের ১০ মাস পর তার উপর অপহরণের মামলা দিয়ে তাকে জেলে দিয়ে দেয়া হয়। আর সেই মেয়ে এখন দুয়ারে দুয়ারে তার স্বামীকে ফিরে পাবার জন্য আর্তনাদ করে যাচ্ছেন।

তারা দুইজনে যখন আগরাতে ছিলেন তখন ভাল ছিলেন। কিন্তু তারা জানতেন না যে, বাসায় তাদের জন্য বিপদ অপেক্ষা করছে। ছেলেটির উপর অপহরণ এবং ধর্ষণের মামলা দেয়া হয়। কারণ মেয়ে এখনও বিয়ের বয়স থেকে ৩ বছরের ছোট। আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের আগে কোন মেয়ের বিয়ে দেয়া যাবে না।

পরিবার তাদের ভালবাসা মেনে না নেয়ার কারণে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। সপ্তাহখানেক আগে, রাঞ্জিতার ঘরে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এই প্রেমিক-যুগল যখন নিজেদের ভালবাসার এক নতুন পৃথিবী তৈরি করে ফেলেছেন, তখন ভিলেন হিসেবে পুলিশের আগমন। পুরাতন সেই মামলার কারণে এখন তার স্বামীকে গ্রেফতার করে নেয়া হয়েছে।

পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, গত বছর মে মাসে দিপাকের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেছিলেন রাঞ্জিতার বাবা। কিন্তু তখন পুলিশ তাকে খুঁজে পায়নি। তাই এবার গ্রামে ফিরে আসার খবর পেলে তারা তাকে গ্রেফতার করেন।

এখন দিপাক জেল থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন যদি আদালতে রাঞ্জিতা তাকে বেকসুর প্রমাণ করতে পারেন।–সুত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।