মেইন ম্যেনু

আইলা অপেক্ষা রোয়ানুতে প্রাণহানি ১০ গুণ কম

দেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন নয়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বহুবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রাণহানিও হয়েছে অনেক। তবে প্রবল মনোবলে দুর্যোগ মোকাবিলা করে ঘুরেও দাঁড়িয়েছে মানুষ।

সর্বশেষ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’তে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে সাত বছর আগের আরেকটি মৌসুমি ঝড় ‘আইলা’য় এর সংখ্যা ছিল ২শ’। প্রাণহানির দিক থেকে বিবেচনা করলে ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলা অপেক্ষা রোয়ানুতে তা ১০ গুণ কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগাম বার্তা ও যথাযথ প্রস্তুতির কারণেই এবার প্রাণহানির ঘটনা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক এম. রিয়াজ আহমেদ বলেছেন, আগাম ও যথাযথ প্রস্তুতির কারণে ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপকতার তুলনায় রোয়ানু খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। আবহাওয়া দফতর যখন বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের খবর জানায়, তখন থেকেই জীবন রক্ষায় জনগণকে সরিয়ে নেয়ার জন্য ব্যাপক প্রচারণাসহ উদ্যোগ নেয়া হয়।

দেশের ১৮টি উপকূলীয় জেলার মধ্যে ১৪টির এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র সঙ্কেত যখন ‘বিপদ সঙ্কেত’-এ রূপ নেয় তখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপকূলীয় জেলাগুলোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাতিল করাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

ফলে ৫ লাখ লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২১ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি ছিল। একইসঙ্গে দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে কম হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে পটুয়াখালি, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শুধুমাত্র খুলনা ও সাতক্ষীরাতেই প্রাণ হারান ১৯৩ জন। এছাড়া কমপক্ষে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে বাস্তুচ্যুত হন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ।