মেইন ম্যেনু

আইসিএসবি’র ৬ষ্ঠ কনভেশন, কনভোকেশন ও অ্যাওয়ার্ড অায়োজন সম্পন্ন

ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) ৬ষ্ঠ জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সোয়া আটটায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দিনব্যাপী মোট তিনটি পর্বে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সকালে কনভেনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া।

অনুষ্ঠানে ফারুক খান বলেন, চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশা বর্তমানে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অ্যাক্ট- ২০১০ পাশ হওয়ার মাধ্যমে এ ইনস্টিটিউটের সদস্যগণের কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং প্রাইভেট প্রাকটিস করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পেশা কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের অভিযাত্রাকে আরও উন্নত করবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই ইনস্টিটিউটের বলিষ্ঠ ভূমিকার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।

কনভোকেশন অধিবেশন শুরু হয় দুপুর পৌনে ৩টায়। অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।

অনুষ্ঠানে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে তরুণ চার্টার্ড সেক্রেটারিরা যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবেন আশা করি। তরুণ চার্টার্ড সেক্রেটারিদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দিনটি তাদের জন্য এবং ইনস্টিটিউটের জন্য গৌরবের। ইনস্টিটিউটের সদস্যগণ বৃহত্তর ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রসেনানী হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হবেন। সরকারকেও সহযোগিতা প্রদান করতে পারেন তারা। অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, এ ইনস্টিটিউট থেকে উত্তীর্ণ তরুণ চার্টার্ড সেক্রেটারিরা যে জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জন করলেন, তা তাদের স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। এ ডিগ্রি তাদের ভবিষ্যৎ চলার পথে হবে আলোকবর্তিকা স্বরূপ।

কনভেনশন স্যুভিনির অবমুক্ত করেন ইন্সটিটিউটের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইতরাত হোসাইন এফসিএস। কনভেনশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় তুলে ধরেন ইন্সটিটিউটের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ফিরোজ ইকবাল ফারুকি এফসিএস। সমাপনি বক্তব্য দেন ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বুল হাসান এফসিএস। প্রথম অংশের অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।

সন্ধ্যার শেষ অ্যাওয়ার্ড অধিবেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা জনাব ড. মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লি. এর চেয়ারম্যান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। স্বাগত ভাষণ দেন ইন্সটিটিউট এর প্রেসিডেন্ট জনাব মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এফসিএস। আইসিএসবি সিজিই এওয়ার্ড চার্টার সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রেসিডেন্ট জনাব মো. ইতরাত হোসেন এফসিএস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা জনাব ড. মশিউর রহমান বলেনঃ আমি জেনে আনন্দিত হয়েছি যে, বিগত কয়েক বছর ধরে এ ইনষ্টিটিউট দেশের কোম্পানি সমূহে টেকসই সুশাসন প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে কাজ করছে। আমি পুরস্কার বিজয়ী সবাইকে অভিনন্দন জানাই। এটি তাঁদের জন্য একটি স্মরনীয় অর্জন। সুষ্ঠু ও কার্যকর কর্পোরেট সুশাসন শুধুমাত্র আইনী কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এ জন্য প্রয়োজন আত্ম-শৃংখলা এবং সুচারুরূপে ও ভারসাম্য রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া। এ ইনষ্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট কিছু দাবি পেশ করেছেন। আমি এগুলোর সাথে সম্পূর্ণ একমত। আমি বিদ্যমান কোম্পানি আইনের পরিবর্তনের প্রশ্নেও একমত। আমি আমার সাধ্যমত যতটুকু সম্ভব সবটুকু আন্তরিকভাবে করার চেষ্টা করব।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লি. এর চেয়ারম্যান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। তিনি বলেনঃ- সুশাসন হলো একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের চাবিকাঠি। সুশাসনের নীতিমালা কোন নতুন বিষয় নয়। সংক্ষেপে এটি হলো দুর্নীতিমুক্ত এমন এক ব্যবস্থাপনা যেখানে কতৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠান উভয়েই জবাবদিহির আওতাভুক্ত। এটি নির্ভর করে আইনের মান্যতার ওপর।

এবার ৮ টি ক্যাটাগরিতে গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ পদক হিসেবে মোট ২৫ টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে- ক. ব্যাংকিং কোম্পানি খ. নন ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি গ. বিমা কোম্পানি ঘ. ফার্মাসিউটিক্যাল, ফুড এন্ড এলাইড কোম্পানি ঙ. টেক্সটাইলস্ ও তৈরি পোশাক কোম্পানি চ. আইটি, টেলিযোগাযোগ ও সেবা কোম্পানি ছ. প্রকৌশল, জ্বালানি ও শক্তি কোম্পানি, জ. উৎপাদন ও ক্যামিকেল কোম্পানি । পুরো অনুষ্ঠানের গণমাধ্যম সহায়তায় ছিলো তেপান্তর মিডিয়া।